আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত ডিক্রীকৃত জমি দখলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা-ভাঙ্গচুর আহত- ৫

মিজানুর রহমান, সিংগাইরঃ

আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ডিক্রীকৃত জমি দখলে নিতে ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা ও ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।এ হামলায় ডিক্রীদার পক্ষের নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় সম্প্রতি ভিক্টিম পক্ষের নুরজাহান (৪০) বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো প্রায় ২০/২২ জনকে অজ্ঞাত রেখে নিকটস্থ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত ২৮ জানুয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টার দিকে এ বর্বোরাচিত ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চাপড়াইল গ্রামে।

ভিক্টিম পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারী বিজ্ঞ সিংগাইর সিনিয়র সহকারী জজ (মানিকগঞ্জ) আদালতের ডিক্রীকৃত ০৮/২০১৮ নং মোকদ্দমার দখলীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য আদালতের আদেশ প্রাপ্ত হয়ে এডভোকেট কমিশনার বদিউজ্জামান এবং জেলা জজ আদালতের নাজির আব্দুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের উপস্থিতি এবং বাদ্যযন্ত্র ডাকঢোল পিটিয়ে ডিক্রীকৃত তপশীল বর্ণিত ভূমি সরেজমিনে খঁুটি পুঁতে সীমানা নির্ধারণ করে ডিক্রীদার মবজেল হোসেন গংদের বুঝিয়ে দিয়ে যান। পরে সেখানে নতুন টিনের ঘর নির্মাণ করেন দরিদ্র-নিরীহ ডিক্রীদার মবজেল হোসেনরা।

কিন্তু সপ্তাহ পার হতে না হতেই বেঁধে যায় বিরোধ। প্রতিপক্ষের অব্যাহত হুমকি ধামকি ও অশ্লীল গালিগালাজ সহ্য করেও ডিক্রীকৃত সম্পত্তিতে সংখ্যালঘুর ন্যায় নিরিবিলি চলছিল মবজেলদের জীবন। কিন্তু ঘটনার দিন প্রতিপক্ষ মামুনের স্ত্রী রোমা আক্তার (৩০) , আলমাসের স্ত্রী হোসনা আক্তার (২১), বিলকিস বেগম (৫০) ও তার ছেলে রিপন (২৫) এর প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণ ও মাস্টার মাইন্ড পরিকল্পনায় প্রায় ২০-২৫ জনের দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ে যৌথভাবে এ হামলা ও ভাঙ্গচুর চালানো হয়।

ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রথমে মবজেল ও তার স্ত্রী নুরজাহান এবং ভাইয়ের স্ত্রী পারভিন আক্তারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পেটাতে পেটাতে বাড়ি হতে চাপরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত নিয়ে যায়। নুরজাহানের কোল হতে শিশু সন্তানকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তাকেও পেটাতে থাকে বেধরক।

এ সময় ভিক্টমদের ঘর তল্লাসি করে কতক সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা নগদ অর্থ, দামি মুঠোফোন ও স্বর্ণালঙ্গকারসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়। ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙ্গচুরে স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এলাকাটি থমথমে হয়ে যায়। পরে মাঠে খেলতে থাকা একদল যুবক ও স্থানীয়রা মিলে ধাওয়া দিলে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে।

স্থানীয়রা মবজেলের পরিবারের আহতদের উদ্ধার করে সিংগাইর সদর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভিক্টিম নুরজাহান ও পারভিন বলেন, বিবাদী আলমাসের স্ত্রী হোসনার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী জয়মন্টপ ইউনিয়নের চর ভাকুম গ্রামে।

এ হামলায় সক্রীয় অংশ গ্রহণকারী হোসনার বড় ভাই সুজাত ওরফে আজাদ (২৫) তাদের এলাকার যুবকদের নিয়ে গড়া একটি ক্লাবের সদস্য। তাই ধারনা ঐ ক্লাবের পুলাপান হবে বহিরাগত ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। ভিক্টিম মবজেল বলেন, আমরা এলাকায় অত্যন্ত শান্ত ও নিরীহভাবে চলি।

আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিছে তাই তো আমরা জায়গা পাইছি। ওরা ( বিবাদীরা ) পাইলেও নিতো। কিন্তু আমরা এমন কাজ করতাম না। এ কথাগুলো বলার সময় মবজেলের দুচোখের কোণে জলরাশি টলমল করছিল। মবজেল আরো বলেন, তোরা আমাদের কিছু করতে পারবিনা বলে বিবাদীরা প্রতি নিয়ত হুমকি দিচ্ছে মারার। বিবাদী বিলকিস ও তার মেয়ে মায়া (ছদ্মনাম) এর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপে ধরা খেয়ে এলাকাবাসি হতে তারা এখন বিচ্ছিন্ন অভিশপ্ত পরিবার বলে পরিচিত। তবে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রশ্ন তুলে এলাকায় গেলে তাদের পাওয়া যায়নি।

এ দিকে ভিক্টিমরা যাতে তাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার পায় সেজন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই ) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিবাদীরা সকলেই আদালত হতে জামিন নিয়েছেন। অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *