আশুলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের পঁচাবাশি খিচুরী খেয়ে এতিমখানার শিশু অসুস্থ্য

অনলাইন ডেস্কঃ

আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন মাতবরের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে তৈরি করা পঁচাবাশি খিচুরী খেয়ে একটি মাদ্রসার এতিমখানার প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু অসুস্থ্য হয়েছে। এঘটনায় গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ওই এতিমখানার ৯ জন শিশুকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন মাতবরের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি বলেন, এটা কোন বিষয় নয়। যারা অসুস্থ্য হয়েছে তাদের সকল চিকিৎসার খরচ আমি বহন করেছি। বিষয়টি ঠিক হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি
গুরুতর অসুস্থ হয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ‘জামি আ আশরাফিয়া দারুল উলুম দুদু মিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা’র দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র সামিয়ুল হাসান, নূর হোসাইন, হামিদুল ইসলাম, ইয়াসিন আলী, ইয়াসিন খান, আতিকুর রহমান, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, আমির হামজা ও ইমরান হোসেন। এছাড়াও ওই মাদ্রসার ২০ থেকে ২৫ জন্য শিক্ষার্থী পঁচাবাশি খাবার খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন।
জানা গেছে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে চেয়ারম্যান শাহাবউদ্দিন মাতবর রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ১০টারদিকে তার নেতাকর্মীদের খাওয়ানোর জন্য খিচুরী রান্না করেন। এসময় তিনি তার নেতাকর্মীদের ওই খিচুরী খাওয়ানোর পর অতিরিক্ত হিসেবে ৪ ডেক খিচুরী অবশিষ্ট রয়ে যায়। পরে তিনি সেই খিচুরীগুলো মহান বিজয় দিবসের দিন ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় ‘জামি আ আশরাফিয়া দারুল উলুম দুদু মিয়া মাদরাসায় ও এতিমখানা’র শিশুদের খাবারের জন্য পাঠিয়ে দেন। পরে সে খাবার মাদ্রসার কর্তৃপক্ষ মহান বিজয় দিবসের দিন সোমবার দুপুরে এতিমখানার সাড়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ওই খাবার খাওয়ার পর থেকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে এক এক করে ওই এতিমখানার শিশুরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বিষয়টি মাদ্রসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তারা তাতক্ষণিকভাবে খাবার বিতরণ বন্ধ করে দিয়ে গুরুতর অসুস্থ্যদের উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখনও গুরুতর অসুস্থ্য শিক্ষার্থীরা সবাই এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮তম তলায় চাইল্ড ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামি আ আশরাফিয়া দারুল উলুম মাদ্রসা ও এতিমখানার ২য় শ্রেণী শিক্ষার্থী ইয়াসিন আলী ও সামিয়ুল হাসান জানান, আমাদের মাদ্রসা ও এতিমখানায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মাতবর বিজয় দিবসের দিন (সোমবার) দুপুরে খিচুরী পাঠিয়েছিলো। এসময় আমরা ওই খিচুরী থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে খিচুরী খাবো না বলে হুজুরদের জানালে তারা আমাদের জোর করে ওই খিচুরী খাওয়ায়। খিচুরী থেকে গন্ধ আসছে বলার পরও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি। পরে আমরা তাদের কারণে খিচুরী খেতে বাধ্য হই। খাওয়ার পর থেকেই আমরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ি।
এ ব্যাপারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাইল্ড ওয়ার্ডের ডাক্তার আব্দুল আল নূর জানান, সোমবার বিকাল ৫ টারদিকে পঁচাবাশি খাবার খেয়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মাদ্রসার ৯ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত দাবি করে তিনি জানান, বাচ্চাগুলোর পঁচা বাশি খাবারের কারণে বেশি বেশি বমি করছিলো। এতে তাদের ডায়রিয়ার পরিমাণ বেশি হওয়ায় পানি শূন্যতা দেখা দিয়েছিলো। পরে আমরা প্রাথমিকভাবে স্যালাইনসহ বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট দিয়ে তাদের সুস্থ্য করে তুলছি। বর্তমানে তাদের অবস্থা ভাল বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারের মাদ্রসার প্রধান বাহাউদ্দিন জানান, বিজয় দিবসের দিন আশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহেব এতিম শিশুদের জন্য ১ ডেক খিচুরী পাঠিয়েছিলেন। আমরা সে খিচুরীগুলো সোমবার দুপুরের এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবারের উদ্দেশ্য বিতরণ করি।
এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আমরা তখন খাবার বিতরণ বন্ধ করে দিয়ে গুরুতর অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। পরে বিষয়গুলো চেয়ারম্যান সাহেবকে জানালে তিনি তাকে বলেছেন, অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার সকল খরচ তিনি বহণ করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *