আশুলিয়ায় অবৈধভাবে মসজিদসহ প্রায় ৩০টি দোকান উচ্ছেদের অভিযোগ ব‍্যবসায়ীদের

.মাইনুল ইসলামঃ

সাভার উপজেলার আশুলিয়ার শ্রীপুরে বিনা নোটিশে মসজিদসহ প্রায় ৩০ টি দোকান উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মুজিবুর তার ভাই ওসমান ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন মার্কেটের দোকানের ব্যবসায়ীরা।
(১লা জুন)সোমবার সকালে অবৈধভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলে ব্যবসায়ীদের বাঁধার মুখে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই ঢাকা-চন্দ্র মহাসড়কের পাশ্ববর্তী মোতালেব মার্কেটের মসজিদ ও দোকান উচ্ছেদ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ড্রেন তৈরি উদ্যোগের নামে স্থানীয় জহিরউদ্দিনের ছেলে মুজিবুর রহমান ও তার ভাই ওসমান, হোসেন আলীর ছেলে ইব্রাহিম, মৃত কানু প্রমাণিকের ছেলে মোহরউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন যুবকসহ সোমবার সকালে উচ্ছেদ করতে যায়।এসময় কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদ করতে থাকেন অভিযানকারীরা ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ব্যবসায়ীরা। মাটি সরিয়ে ফেলায় ভেঙে গিয়েছে মসজিদের একাংশ। এর ফলে অসহায় হয়ে পড়েছেন মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিগন।
নামাজ পড়তে আসা স্থানীয় করিমুদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত মসজিদটিতে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন জলাবদ্ধতাকে দোহাই দিয়ে মসজিদ উচ্ছেদ করে পানির ড্রেন নির্মাণ করছে, যা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মসজিদের ইমাম বলেন, আজ সকালে হঠাৎ করেই মার্কেট উচ্ছেদ শুরু হয়৷ কোন প্রকার নোটিশ না দিয়েই মসজিদ উচ্ছেদ করছে কতিপয় যুবক। উচ্ছেদের ফলে মসজিদের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এবিষয়ে মোতালেব মার্কেট মালিক বলেন, বিনা নোটিশে কতিপয় স্থানীয় যুবক মিলে মসজিদসহ দোকান উচ্ছেদের চেষ্টা চালালে দোকান মালিকদের বাধায় কাজ থেমে গিয়েছে৷ হঠাৎ করে এ কার্যক্রমের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসায়ীরা। করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে ব্যবসায়ীগন। উচ্ছেদ রোধে থানায় সাধারন ডায়েরী করা হবে বলেও তিনি জানান।
এবিষয়ে অভিযুক্তরা বলেন, মূলত জলাবদ্ধতা দূর করার জন্যই আমরা এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। স্থানীয় জনগনের কথা বিবেচনা করেই মার্কেটের দোকানসমূহ উচ্ছেদ করছি। তবে মসজিদ এবং দোকানসমূহ উচ্ছেদে উর্ধ্বতন কারো সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে স্বদত্তর দিতে পারেনি তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনতাজুর রহমান বলেন, উচ্ছেদের বিষয়ে আমি শুনেছি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোন জমি উচ্ছেদের এখতিয়ার কারোর নেই। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *