ইউএনও কে আপা বলায় লাঠিপেটা করা হয়নি: অর্থ দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী

মিজানুর রহমন, সিঙ্গাইর, মানিকগঞ্জ:

ইউএনও কে আপা বলার কারণে আমাকে লাঠিপেটা করা হয়নি। এমনকি তিনি লাঠিপেটা ও মারধর করার নির্দেশও দেননি। দোকান বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় তার সাথে থাকা এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে আমাকে সামান্য ধাক্কা ও বাড়ি দিয়েছে। এর জন্য ইউএনও স্যার দায়ি নন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লাকে জড়িয়ে “ইউএনও কে আপা বলায় ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটা” শিরোনামে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে অর্থ দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী তপন চন্দ্র পাল এসব কথা বলেন।

তপন চন্দ্র পাল উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের জায়গীর বাজারের প্রীতম জুয়েলার্সের মালিক। চলমান কঠোর লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

তিনি আরও বলেন, খরিদ্দারদের চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার দোকান খোলাই। এদিন বিকালে জায়গীর বাজারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় ভয়ে দোকানের ভিতরে খরিদ্দার রেখে বাইরে থেকে বন্ধ করে দেই। তখন দোকানে ৮-১০ জন খরিদ্দার ছিল। লকডাউনের বিধিনিষেধ লঙনের অভিযোগে আমাকে দুই হাজার টাকা ও মুখে মাস্ক না থাকায় কয়েকজন খরিদ্দারকে পাঁচশত টাকা করে জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লা। এবং দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। দোকান বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় ইউএনও’র সাথে থাকা এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে আমাকে হালকা ভাবে ধাক্কা ও বাড়ি দিয়েছে। এ ঘটনার জন্য ইউএনও দায়ি নন।

স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পাল বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিক এ বিষয়ে আমার কাছে জানতে চান। তাদেরও আমি একই কথা বলেছি। তারা আমার কথা বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সংবাদে আমার বরাত দিয়ে ইউএনও কে জড়িয়ে যা লেখা হয়েছে তা সত্য নয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, প্রীতম জুয়েলার্স-এর মালিক তপন চন্দ্র পাল বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে লকডাউনের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় সচেতন মহল দোকান বন্ধ রাখার কথা বললেও তা আমলে নেননি তিনি। বৃহস্পতিবার ওই দোকানে অনেক খরিদ্দার ভিড় করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে এদিন বিকালে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে জায়গীর বাজারে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা। বাজারের প্রীতম জুয়েলার্সের সামনে লোকজনের ভিড় দেখে এগিয়ে যান। বিষয়টি আচ করতে পেরে স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পাল ভিতরে খরিদ্দার রেখে বাইরে থেকে দোকান বন্ধ করে দেন। বাইরেও তখন ৬-৭ জন খরিদ্দার দাড়িয়ে ছিল। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা তাকে দোকান খুলতে বলেন। তিনি দোকান না খোলে ভ্রাম্যমান আদালতের টিমের সাথে তর্কে জড়ান।

এক পর্যায়ে দোকান খুললে ভেতরে ৮-১০ জন খরিদ্দার পাওয়া যায়। তখন তাদের কারও মুখে মাস্ক ছিলনা।

পরে সংশ্লিষ্ট আইনে স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পালকে দুই হাজার টাকা, খরিদ্দার বিল্লালকে এক হাজার, বিলকিস আক্তার ও শিউলি আক্তারকে পাঁচশত টাকা করে এক হাজার টাকা জরিমানা ও আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লা। এবং দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে সেখান থেকে চলে যান তিনি।

ঘটনার প্রত্যেক্ষদর্শী জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট কহিনুর ইসলাম সানি বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। লকডাউনে দোকান খোলা রাখার অভিযোগে প্রীতম জুয়েলার্সের মালিক তপন চন্দ্র পাল ও মুখে মাস্ক না থাকায় কয়েকজন খরিদ্দারকে জরিমানা করেন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ইউএনও রুনা লায়লা। পরে দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে চলে যান তিনি। এসময় ইউএনও কারও সাথে খারাপ আচরণ ও দোকান মালিককে মারধর করেননি। এবং কাউকে মারধর করার নির্দেশও দেননি তিনি। এই ঘটনা শুধু আমি একা নই এলাকার অনেক মানুষ দেখেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মুসফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লাকে আপা বলায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লাঠিপেটার ঘটনাটি আদৌ সত্য নয়। আমি স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পালের সাথে সাক্ষাৎ করে দীর্ঘ সময় কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন ইউএনও কে আপা বলার কারণে তাকে লাঠিপেটা করা হয়নি। দোকান বন্ধ করতে দেরি হওয়ায় ইউএনও’র সাথে থাকা এক পুলিশ সদস্য লাঠি দিয়ে তাকে ধাক্কা ও হালকা বাড়ি দিয়েছে। ঘটনা যাই ঘটুক তার জন্য ইউএনও দায়ি নন বলে জানিয়েছেন স্বর্ণকার তপন চন্দ্র পাল।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। ব্যক্তিগত আক্রোশে ইউএনও’র বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনা লায়লা বলেন, রাস্তা-ঘাট ও অফিস-আদালতে সব সময় মানুষ আমাকে আপা ও খালা বলে সম্বোধন করে থাকেন। অনেকেই স্যার বলেন। যার যেটা ভাল লাগে বলেন। এসব বিষয় কখনো মাথায় আসেনি। এতে অামি দোষেরও কিছু দেখিনা।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে স্বর্নের দোকানদার তপন চন্দ্র পাল আপা না স্যার বলেছেন সেটাও খেয়াল করিনি। লকডাউনের বিধিনিষেধ লঙনের দায়ে বিধি মোতাবেক তাকে ও তার দোকানের কয়েকজন খরিদ্দারকে আর্থিক জরিমানা করা হয়। এ নিয়ে দোকান মালিকসহ কারও সাথে আমার উচ্চবাচ্য হয়নি। নির্দেশ দেওয়ার পরও দোকান বন্ধ না করায় পুলিশ সদস্য হয়তো তাকে লাঠি দিয়ে ধাক্কা দিয়েছে। এর বেশি কিছু হয়নি। এই ঘটনাকে পুজি করে স্থানীয় স্বার্থান্বেসী কতিপয় সাংবাদিক ব্যক্তিগত আক্রোশে আমাকে হেয় করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছেন। যা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে উপজেলার সব শ্রেনীপেশার মানুষ।

পুঁজিবাজারে ক্রেতাশূন্য ১৬৮ কোম্পানির শেয়ার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬৮ কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রতি আগ্রহ হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীদের। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) লেনদেন শুরুর পর ক্রেতা থাকলেও ধীরে ধীরে...

Read more

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম
সহ-সম্পাদক : এডভােকেট-মাে: আবু জাফর সিকদার

কার্যালয় : হোল্ডিং নং ২৮৪, ভাদাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : [email protected]

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
x