এক দিনের শিশুকে হত্যা, টাকা দিয়ে মিমাংসা করতে মরিয়া ইউপি সদস্য বকুল সরকার

আশুলিয়ার নরসিংহপুরে ভুঁয়া নার্স নাজমা ও ঔষোধ বিক্রেতা আজিজুলের বিরুদ্ধে নবজাতক শিশুকে গ্যাসের চুলায় তাপ দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।আর এই নবজাতক শিশু হত্যার ঘটনাটি টাকার বিনিময় ওপুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল।৷ জানা যায় গত ২১/০৪/২১ইং তারিখ সকালে প্রসুতি মা জাহানারা বেগমের মাতৃত্বকালীন প্রসব ব্যাথা উঠলে প্রসুতির স্বামী কামরুল ইসলাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি নেন। ঠিক সে সময় স্থানীয় ঔষোধ বিক্রেতা আজিজুল কাজী বিষয়টি জানতে পারে এবং প্রসুতি জাহানারা বেগমের ভাড়া বাসায় গিয়ে হাসপাতালে না নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।

এবং বিভিন্ন ভাবে ফুসলিয়ে ভালো নার্স দিয়ে খুব অল্প টাকায় বাসায় ডেলিভারি করিয়ে দিবে বলে আশ্বাস দেন। এতে তারা রাজি না হওয়ায় ,হাসপাতালে নিয়ে গেলে কাটাছেড়া ও জীবন নষ্ট করে ফেলবে বলেও ভয়ভীতি দেখায় ঔষোধ বিক্রেতা আজিজুল কাজী। ভয় পেয়ে ৬ হাজার টাকা চুক্তিতে একপর্যায়ে বাসায় বাচ্চা প্রসব করাতে রাজি হন তারা। এরপর ঔষোধ বিক্রেতার ভুলভাল ঔষোধ এবং ভুঁয়া নার্স নাজমা মধ্যেযুগীয় কায়দায় বাচ্চা প্রসব করালে,বাচ্চা ও বাচ্চার মায়ের অবস্থা আশংকা জনক হয়ে দারায়।

এরপর বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাস এবং কোন কান্নাকাটির সাড়া শব্দ না পাওয়ায় ভুঁয়া নার্স নাজমা বাচ্চাটির দুই পা উপরে ঝুলিয়ে গ্যাসের চুলায় আগুন জালিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট মাথায় তাপ দেন। এতে নবজাতক শিশুটির মাথায় রক্ত জমাট বেধে গেলে আরো গুরুতর অবস্থা আকার ধারণ করে।তাৎক্ষনিক ভাড়া বাড়ির মালিক আমেনা বেগম ও স্থানীয় লোকজন দুইজনকে নারী ও শিশু সাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তবরত চিকিৎসকগণ বলেন তাদের অবস্থা খুব আশংকা জনক এবং বাচ্চাটিকে বাচানো সম্ভব নয় বলেও ঘোষণা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেন।

এবং পরদিন দুপুরে নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।শিশুটির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে তুমুল আলোচনা সমালোচনা ও উশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।ঘটনাটি যেন বেশি ছড়িয়ে না পরে এবংকি প্রশাসনব্দি না পৌঁছায়। তাই দ্রুত দাফন কাফন করার জন্য ঘটনার সাথে জরিত ব্যাক্তিরা উল্টো কোন প্রকার অভিযোগ ছাড়াই টাকার বিনিময়ে পুলিশ এনে ভয়ভীতি দেখায় এবং ইয়ারপুর ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার বকুল হোসেন সরকার, সহ সাবেক মেম্বার আকাশ পলোয়ান, সাবেক মেম্বার মনতা,স্থানীয় ব্যাক্তি হায়দার আলীএবং মুক্তা সহ আরো কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তির পরামর্শ ও দলিয় প্রভাবে তাড়াহুড়ো করে দাফন করতে বাধ্য হয় নবজাতক শিশুটির পরিবার ।

শুধু তাই নয় মৃত নবজাতক শিশুর বাবা ও দাদার কাছে সাদা কাগজ ও স্টাম্পে জালিয়াতি করে সই সাক্ষর ও নিয়েছেন বলে জানা যায়।মৃত নবজাতক শিশুটির বাবা বলেন আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় খুনি ঔষোধ বিক্রেতা আজিজুল কাজী তার বড় ভাই হানিফ কাজী ও পল্টন থানার এস আই আব্দুল্লাহ সহ আরো একজন পুলিশের লোক আমার স্ত্রীর হাসপাতালের সমস্ত বিল পরিষোধ করার কথা বলে আমাদের কাছে সাক্ষর নেয়।পরে জানতে পারি সেটা ছিল আমার মৃত সন্তানের না দাবির একটি চুক্তি পত্র। এখনো পযন্ত এব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ হয়েছে কিনা জিগ্গাসা করলে মৃত শিশুটির বাবা মা জানান তাঁরা খুব খারাপ লোক আমরা তাদের ভয়ে থানায় যায়নি তাছাড়া এখানকার ইউপি সদস্য বকুল হোসেন সরকার বিষয়টি মিমাংসা করে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

কিন্তু এখনো পযন্ত কোন মিমাংসা করে দেননি তারা।বরং উল্টো আমাদের পুলিশের ভয় দেখাচ্ছে আজিজুল কাজী ও তার ভাই হানিফ কাজী।সমস্ত ঘটনার বিষয়াদি নিয়ে ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বকুল সরকারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি বিষয়টি শুনেছি কিন্তু কোন মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলিনি। এদিকে স্থানীয় ব্যাক্তি হায়দার আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন।আমার হাত দিয়ে দশ হাজার টাকা আমি বকুল মেম্বারকে দিয়েছি এর পর আমি আর কিছু জানিনা।ঘটনার সত্যতা জানতে অভিযুক্ত ভুঁয়া নার্স এর যোগাযোগ করতে চাইলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আর একজন অভিযুক্ত আজিজুল কাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন সমস্ত কিছু আমার বড় ভাই হানিফ কাজী দেখভাল করতেছেন যা করবেন আমার বড় ভাই করবেন।

নবজাতক শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে আশুলিয়া থানায় যোগাযোগ করলে তারা বলেন এখন পযন্ত এমন কোন অভিযোগ পায়নি অভিযোগ পেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।তথ্য সংগ্রহ কালে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বলেন আজিজুল কাজী এর আগেও এরকম একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে কিন্তু তার বড় ভাই হানিফ কাজীর কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তির সাথে উঠা বসা থাকায় কেউ অভিযোগ করার সাহস পাইনা।এদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত জরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ।আর তা না হলে আরো অনেক প্রসুতি মাকে সন্তান হারা হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *