করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক

অনলাইন ডেস্ক :
এবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন পরিচালক। ২২তম বিসিএস ক্যাডার এই দুদক পরিচালকের বয়স ৪৫ বছর।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২২ মার্চ প্রথম দফায় জ্বর আসে এই দুদক কর্মকর্তার। তখন তাপমাত্রা কম থাকায় তিনি নির্বাহী কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
দ্বিতীয় দফায় ২৪-২৫ তারিখ তার আবারো জ্বর আসে। তখনও তাপমাত্র কম ছিল। জ্বরের সঙ্গে হালকা কাশিও ছিল। দু’দিন পর তিনি সুস্থ হয়েছে যান। তবে জ্বর নিয়ে তিনি অফিস করেন।
তৃতীয় দফায় ৩০ তারিখ তার পুনরায় জ্বর আসে। এরার তাপমাত্রা বেশি ছিল। সেদিনই তিনি আইইডিসিআরকে জানান। পরে আইইডিসিআর তার নমুনা সংগ্রহ করে এবং রাতেই তাকে করোনা পজিটিভ বলে জানানো হয়। এরপর তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালে চিতিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
২৪-২৫ মার্চ অফিস করার সময় এই দুদক কর্মকর্তার সংস্পর্শে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তা সাইফুর রহমান করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত চার দিন তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। বর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তানদের হাসপাতালের আইসোলেসনে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জালাল সাইফুর রহমান ২২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার ছিলেন। দুদকের এ পরিচালক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপসচিব) হিসেবে আসীন ছিলেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তাকের দুদকের পরিচালক হিসেবে স্থানান্তরিত করা হয়।
তার বাড়ি ফেনী জেলায়। তার একমাত্র ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন।
তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, তার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কোনো পক্ষ থেকে তার মত্যৃর কারণ খোলাসা করে বলা হয়নি।
এদিকে জালাল সাইফুরের স্ত্রী ও সন্তানদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে রাজধানীর ২৯ এলাকা এবং দেশের ১১ জেলায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সংক্রমিত (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী রোববার (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত সারা দেশে শনাক্ত হওয়া ৮৮ জন করোনা ভাইরাসে রোগীর মধ্যে ৫২ জনকে রাজধানীর ২৯টি এলাকা এবং বাকিদের দেশের ১১টি জেলা থেকে শনাক্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর ২৯টি স্থানের মধ্যে বাসাবোয় ৯ জন, মিরপুরের টোলারবাগে ৬ জন, পুরান ঢাকার শোয়ারিঘাট ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বসুন্ধরা, ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর-১০, মোহাম্মদপুর, পুরনো পল্টন, শাহ আলী বাগ ও উত্তরা এই ৮ স্থানে ২ জন করে করোনা রোগী শনাক্ত করা গেছে।
এছাড়া বুয়েট এলাকা, সেন্ট্রাল রোড, ইস্কাটন, গুলশান, গ্রিনরোড, হাজারীবাগ, জিগাতলা, মিরপুর কাজীপাড়া, মিরপুর-১১, লালবাগ, মগবাজার, মহাখালী, নিকুঞ্জ, রামপুরা, শাহবাগ, উর্দু রোড ও ওয়ারী এই ১৮টি স্থানে ১ জন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।
১১ জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকায় ৫৪ জন, মাদারীপুরে ১১ জন, নারায়ণগঞ্জে ১১ জন, গাইবান্ধায় ৫ জন, এবং গাজীপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, কক্সবাজার, শরীয়তপুর, রংপুর ও চট্টগ্রামে একজন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *