কাবুলে বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করল আইএস

আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জোড়া বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

বৃহস্পতিবার ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণে ১২ মার্কিন সেনাসহ অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪০ জনের বেশি। হতাহতদের মধ্যে বেসামরিক আফগান নারী ও শিশু রয়েছে।

এই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস বিবৃতি দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়। বিবৃতিতে আইএস বলেছে, তাদের একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে থাকা অনুবাদক এবং সহযোগীদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এর আগে এই ঘটনার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষও আইএসকে দায়ী করেছে।

২০১১ সালের পর আফগানিস্তানে এক ঘটনায় সর্বোচ্চ মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনা ঘটল বৃহস্পতিবার। ওই বছর আগস্টে আফগানিস্তানে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৩০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেনবিমানবন্দরের দিকে যাওয়া এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্য আমি ভাবলাম আমার কানের পর্দা ফেটে গেছে।

শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। ঝড়ের মতো পলিথিনের ব্যাগগুলো উড়তে থাকে। মানুষের লাশ এবং শরীরের অংশ বাতাসে ভাসতে দেখেছি। মৃতদেহ, শরীরের অঙ্গ, বৃদ্ধ এবং আহত নারী-পুরুষ ও শিশুদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেছি।’

তালেবানের সঙ্গে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির পর আফগানিস্তানে এই প্রথম মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল।

এ দিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তালেবান বলেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা স্থানে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায়েরও উচিত বেসামরিক আফগানদের লক্ষ্য করে এই হামলার নিন্দা জানানো।

বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল ম্যাককেঞ্জি বলেছেন, আফগানিস্তানে এখনো প্রায় এক হাজার মার্কিন নাগরিক রয়েছে। তাই সেখান থেকে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং এ বিষয়ের ওপর তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে অনেক পশ্চিমা দেশ মনে করছে, এই ঘটনার পর বেসামরিক লোকদের আফগানিস্তান থেকে নিয়ে আসার কার্যক্রমের ইতি ঘটেছে।

হাজার হাজার আফগান নাগরিক যারা দুই দশক ধরে পশ্চিমাদের হয়ে কাজ করেছে তাদের ফিরিয়ে আনার আর কোনো পথ রইল না বলে মনে করছে অনেক পশ্চিমা দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *