কোন প্রণোদনা ভাতা চাইনা শুধু শ্রমের ন্যায্য মূল্য চায়: গ্রাম পুলিশ বাহিনী

সুজন মিয়া

মহামান্য হাইকোর্টে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর রিটপিটিশন মামলা প্রধান বাদী ,রিট রায় আপিল বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি; ধামরাই থানার কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ কমান্ডার এম এম লালমিয়া এক সাক্ষাৎরে বলেন, ধন্যবাদ জানাই মানবতার মা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। দেশের ৪৬ হাজার গ্রামপুলিশ সদস্যদের জন্য ৬ কোটি টাকা প্রণোদনা ভাতা বরাদ্দ দেয়ার জন্য।

সেই সাথে তিনি বলেন ,আমরা কোন সাহায্য চাইনা, স্থানীয় সরকারের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত ৪৬ হাজার গ্রামপুলিশ সদস্যরা কোন রকম নিরাপত্তা পোশাক ছাড়াই দেশের ৮৭ হাজার গ্রাম বাংলায় ,নবেল করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যা গণ প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য বাহিনীর চাইতে

প্রশংসনীয়। ইতিমধ্যেই এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গ্রামপুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছে । এমনকি নবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কিছু গ্রামপুলিশ সদস্যের মৃত্যুও হয়েছে।

৬৫০০ শত টাকা মাসিক বেতনে দিন হাজিরা ২১৬ টাকা। ২১৬ টাকা হাজিরার একজন গ্রামপুলিশ সদস্য ৭০ প্রকারের কাজ করে থাকে। এই একটি মাত্র চাকুরী আছে যাকে দুই থেকে তিনটি

মন্ত্রণালয়ের আদেশ পালন করতে হয়। সকাল ৮ ঘটিকায় স্থানীয় সরকারের অফিস ইউনিয়ন পরিষদে এসে, দায়িত্ব শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুলিশ সদস্যদের সাথে কাজ করে পালন করতে হয় ।তাছাড়া কৃষি অফিসারদের সাথে কাজ করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় দায়িত্ব পালন করতে হয়।

ইউনিয়ন পরিষদে বিজিডি,বিজি এফ সরকারি বেসরকারি ত্রাণ বিতরন বয়ষ্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরন আত্মহত্যা জনিত লাশ,বেওয়ারিশ লাশ, পাহারা আর বর্তমানে শুরু হয়েছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ও বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরত আসা মানুষের বাড়ি লগ ডাউন, সামাজিক দূরত্ব বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করার জনসচেতন করা, চায়ের দোকান সহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় আড্ডাস্থলের দোকান বন্ধ রাখা।

খেলার মাঠে দল ভেদে আড্ডা ও ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা বন্ধ সহ অগনিত কাজ করে আসছে বাংলার ৪৬ হাজার গ্রামপুলিশ সদস্য। অথচ হাজিরা মাত্র ২১৬ টাকা। তিনি দুঃক্ষ প্রকাশ করে বলেন ,যে দেশে অন্য দেশের ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা এসে সরকারের সমস্ত নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারে, সেই দেশে সরকারি পোশাক পড়ে প্রায় ১৮ ঘন্টা ডিউটি করে শ্রমের ন্যায্য মূল্য পায়না।

কমান্ডার এম এম লালমিয়া সর্বশেষ বলেন, আমরা কোন সরকারি অনুদান চাইনা! আমরা শুধু আমাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য চাই । আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার যোদ্ধা হতে চাই। আমরা দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে দেশের জনগণের পাশে দাড়াতে চাই। প্রয়োজনে সরকারের এই দূ:সময়ে আমাদের ৪৬ হাজার গ্রামপুলিশ সদস্যদের

১ দিনের বেতনের টাকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে জমা দিতে চাই।
তবুও চাই আমরা আমাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য। চাই সঠিক মূল্যায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *