নৌকার হাট

মানিকগঞ্জ জেলার অন্যতম নৌকার হাট ঘিওর  প্রায় দেড় শ বছর যাবৎ ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাটে নৌকা বেচাকেনা হয়। ঘিওর হাটে দেখা যায় কারিগররা নৌকা তৈরি ও বিক্রি করছেন। আবার অনেকে নৌকা তৈরি করে বিক্রির জন্য সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে এলাকায় ছোট ডিঙি ও কোশা নৌকার চাহিদা বেশি। ভালো কাঠের তৈরি নৌকায় খরচ বেশি হওয়ায় কড়ই, জাম্বল, আম ও কদম কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরি হচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লোকজন নৌকা বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন হাটে। অনেকেই এ মৌসুমে নৌকা বিক্রি করে তাদের সারা বছরের সঞ্চয় করে থাকেন। মানিকগঞ্জের ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুর দুর্গম চরাঞ্চলে নৌকা ছাড়া চলাফেরা করা সম্ভব হয় না। তাই বর্ষা আসার আগেই এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঠমিস্ত্রিরা নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও বর্ষার শুরুতেই ঘিওর উপজেলা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকায় ঈদগা মাঠ ও ঘিওর ডিএন হাইস্কুলের মাঠের এক পাশে নৌকা বিক্রির হাট জমে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের ছোটবড় নৌকা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ঘিওর বাজারে আসা কাঠমিস্ত্রিরা জানান, তাদের কারখানায় তৈরি নৌকা ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুর, মহাদেবপুর, তরাহাটসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। বর্তমানে লোহা কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় নৌকা তৈরির খরচ বেড়েছে। নৌকা প্রকারভেদে প্রতিটি ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। কাঠমিস্ত্রি সুবল সূত্রধর বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকেই নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমাদের বাড়িতে নৌকা তৈরির ধুম পড়ে যায়।’ হাট ইজারাদার মো. ইকরামুল ইসলাম খবির জানান, নৌকা হাটের সঙ্গে ঘিওরের সুনাম ও ঐতিহ্য জড়িত। হাটে বিভিন্ন ধরনের নৌকা বিক্রি হয়। অতিরিক্ত কোনো ধরনের খরচ না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদে নৌকার ব্যবসা করেন।
করোনাভাইরাসে সামাজিক নিরাপত্তা মেনে নৌকার হাটে কেনাবেচা চলছে। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন মুসা জানান, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাট নৌকা বিক্রির জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার নৌকা এ হাটে বিক্রি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *