প্রশিক্ষণার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানই ‘কাল’ হল মহিলা অফিসের সহকারি রাশেদা ও বিউটিফিকেশন মিষ্টির

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১৩ম ব্যাচের প্রশিক্ষনার্থী প্রশিক্ষন শেষে নিজ উদ্যোগে বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। আয়োজনে অংশ গ্রহণ করার জন্য শারমিনকে মুঠোফোনে কল করলেও সে রিসিভ করেনি। অতপর শারমিন বিদায় অনুষ্ঠানের দিন উপস্থিত হলে বাঁধে বিপত্তি।

খাবার নির্ধারিত থাকায় শারমিনকে না দিতে পারায় প্রশিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টির ওপর ক্ষেপে যান শারমিন। আর তাতেই অপর ২ বান্ধবী অনিতা ও তানিয়াকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। এমনটাই দাবি করেন অত্র অফিসের অফিস সহকারি রাশেদা খাতুন ও প্রশিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টি।

অন্যদিকে সরেজমিনে তদন্তকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। গত ০৮ মে দুপুর ১২ টার দিকে অত্র অফিসে সরাসরি তদন্তে গেলে প্রশিক্ষনার্থী সবাই এ অভিযোগের বিরোদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। তারা অফিস সহকারি রাশেদা খাতুন ও প্রশিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টির পক্ষে গণস্বাক্ষর।

এদিকে অভিযোগকারী তরুণী অনিতা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি এক মাস ক্লাস করেছি। বাকি সময় করোনার টিকা নেয়া ও পারিবারিক বিভিন্ন কারণে আসতে পারিনি। ভর্তির সময় কোন টাকা লাগেনি এবং ক্লাসে প্রশিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টি ম্যাম আমার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করেননি। আরেক তরুণী তানিয়াকে তার মুঠোফোনে কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপর তরুণী শারমিন বলেন, আমি ১২ দিন আসতে পারিনি পরীক্ষা ছিল তাই। ভর্তির সময় কোন টাকা লাগেনি। ক্লাস টাইমেও কোন খারাপ ব্যবহার করেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংগাইর মহিলা অফিসের বিউটিফিকেশন জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টি বলেন, ওদের তিন জনকেই আমি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ম্যাডাম প্রশিক্ষন শেষে সবাইকে স্ব-স্ব চেক বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখানে এক বছরের ক্যারিয়ারে ০৮ জন মেয়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করেছি। সবাই আমাকে ভালোবাসে। ক্ষোভের তাগিদে শারমিন তার অন্য দুই বান্ধবীদের নিয়ে আমার বিরোদ্ধে অভিযোগ করে। এ ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী আছে। অনিতা ও তানিয়া দুজনেই স্বীকার করেছে আমি তাদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করিনি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে আমাকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট দেখে প্রশিক্ষনার্থীরা সবাই মর্মাহত হয়েছে।

উক্ত কার্যালয়ের অফিস সহকারি রাশেদা খাতুন বলেন, আমি যদি কোন রকম দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকতাম তবে কি একই অফিসে এত দিন চাকরি করতে পারতাম। দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত সুনামের সহিত এখানে কাজ করে আসছি সততা ও নিষ্ঠার সাথে। সিংগাইরের বেশিরভাগ লোকজন আমাকে ভালোবাসেন ও ¯েœহ করেন।

শুনেছি অফিসের মিষ্টির সাথে বিদায় অনুষ্ঠানের দিন খাবার নিয়ে শারমিনের সাথে মনমালিন্য হয়। মিষ্টিকে যতটুকু চিনি ও অত্যন্ত নিষ্ঠাবান প্রশিক্ষক। তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমাকে জেলা অফিস বদলির নোটিস পাঠিয়েছে। আগামীকাল হতে এখানে আর আমাকে পাবেনা সেবা গ্রহীতারা। স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে আমাকে নিয়ে মিথ্যা কুরুচিপূর্ণ ও বানোয়াট সব কথা লেখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা অফিসের কর্মকর্তা রওশন আরা বলেন, আমি প্রায় আড়াই বছর যাবৎ এ অফিসে কর্মরত আছি। অত্র অফিসের ষ্টাফদের বিরুদ্ধে এর আগে কখনো কোন ধরণের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের পর ক্লাসের সকল মেয়েদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাপক আগ্রহ ভরা কন্ঠ নিয়ে সবাই অফিসের প্রশিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টি ও অফিস সহকারি রাশেদা আক্তারের ভূয়সী প্রশঙসা করে এ অভিযোগের বিরুদ্ধে ভরাট কন্ঠে সবাই প্রতিবাদ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপন দেবনাথ বলেন, তিন তরুণীর অভিযোগটি দেখেছি। মহিলা অফিসের কর্মকর্তা রওশন আরা কে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন চলতি ০৫ কর্ম দিবসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। যা আজ ১১ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দিবেন। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *