বাংলাদেশে পুরুষ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিউজ ডেস্কঃ

 

আজ ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০১৯ উপলক্ষে বাংলাদেশে পুরুষ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন (বিএমআরএফ) এর উদ্যোগে আজ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ইং রোজ মঙ্গলবার সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা এর সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অত্র সংগঠনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক তাইফুল রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ ইবনে আজাদ, আনোয়ার হোসেন, ডাঃ মহিউদ্দিন, মোঃ মহিউদ্দিন খানসহ সংগঠনের সদস্যরা। আরও বক্তব্য রাখেন অত্র সংগঠনের সিলেট বিভাগীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এড. আনিচুল হক। উক্ত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন অত্র সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ খায়রুল আলম।

অবশেষে সংগঠনের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন আজ ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। অথচ এদেশে পুরুষ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচেছ। পুরুষরাও মানুষ। পুরুষরাও এদেশের নাগরিক। পুরুষেরও অধিকার আছে। কিন্তু কার কাছে এই অধিকারের কথা বলবে? পুরুষের নীরব কান্না শোনার মতো পুরুষ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও নাই। এমনকি অধিদপ্তর বা পরিদপ্তরও নাই। সেজন্য নীরবে কাঁদছে পুরুষ দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে আমরা অভিযোগ পাচ্ছি। অনেকে কান্নাকাটি করে, কিন্তু আমরা কি করতে পারি? আইনতো আমাদের পক্ষে না। তাইতো আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে বাংলাদেশের পুরুষ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সেই সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আংশিক চিত্র তুলে ধরলাম। ১। দুষ্টু নারীরা বিয়ের নামে কাবিনের ব্যবসা করে নিরীহ পুরুষদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অথচ এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার আয়াত নং ২২৯ অনুসারে যদি কোন স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে মুক্ত হতে চান, তবে কোন কিছুর বিনিময়ে হতে হবে, যা তার মোহরানার অতিরিক্ত হবে না। ২। দন্ডবিধি ৪৯৭ ধারায় একই অপরাধে পুরুষের পাঁচ বৎসর জেল এবং জরিমানা কিন্তু নারীর দায়মুক্তি। এতে করে নারীরা পরকীয়ার প্রতি উৎসাহিত হচ্ছে। অনেক নারীকে বলতে শুনি প্রেমের মজা পরকীয়ায়। তারা মজা নিবে অথচ শাস্তি পাবে না। ৩। পরকীয়া আসক্ত ও অবাধ্য স্ত্রীকে শাসন করতে গেলে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দিয়ে হাজতে পাঠিয়ে দিচ্ছে, অথচ স্বামীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ৪। বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভরন-পোষণ পিতাকেই বহন করতে হয় অথচ সন্তানের ভালোবাসা হতে পিতাকে বঞ্চিত করা হয়। ৫। পরকীয়া আসক্তি স্ত্রী স্বামীকে সর্বশান্ত করে চলে গেলেও স্বামী তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না। ৬। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে নারী ও পুরুষ এর সমান অধিকারের কথা বলা হলেও নারী নির্যাতন দমন আইন আছে, কিন্তু পুরুষ নির্যাতন দমন আইন নেই। ৭। নারী নির্যাতন মামলা ৮০ ভাগই মিথ্যা, তাহলে ২০ জন ভিকটিম নারীর জন্য ৮০ জন নিরীহ পুরুষ মিথ্যা মামলার শিকার হবে কেন? এত অল্প পরিসরে পুরুষ মানবাধিকার লঙ্ঘনে সবচিত্র তুলে ধরা সম্ভব নয়। এর প্রতিকার কি? বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করছে। বাংলাদেশ পুরুষ অধিকার ফাউন্ডেশন সব সময় নির্যাতিত পুরুষ ভাইদের পাশে ছিল, আছে, থাকবে এবং সব সময় নির্যাতিত ভাইদের সব ধরণের সহযোগিতা করবে। তিনি আরো বলেন, প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনাদের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার মা, বিশ্বনেত্রী উন্নয়নের রূপকার, অসহায় মানুষের আস্থার ঠিকানা দেশরতœ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি নির্যাতিত পুরুষদের জন্য কিছু করুন। এদেশের পুরুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভ’ূমিকা পালনের জোর দাবি জানাচ্ছি। আপনি অনতিবিলম্বে উল্লেখিত আইনের ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নারী-পুরুষের আইনী সমান অধিকার নিশ্চিত করুন। অন্যথায় যারা বাংলাদেশের নির্যাতিত পুরুষরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করিতে বাধ্য হবে। আমাদের বিশ্বাস দোষী পুরুষ হোক বা নারী হোক উভয়েই যেন সমান আইনী অধিকার পায় তাহা নিশ্চিত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *