ভগ্নিপতির ধর্ষণে শ্যালিকা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

ভগ্নিপতির জোরপূর্বক ধর্ষণে ময়মনসিংহের ভালুকায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হলো ১২ বছর বয়সী শ্যালিকা। উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধলীয়া গ্রামে শ্যালিকা ধর্ষণের ওই ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই শিশু স্থানীয় একটি প্রথমিক বিদ্যালয়ের৫ম শ্রে ণির ছাত্রী। ওই ঘটনায় ভগ্নিপতি মানিক চন্দ্র দেবনাথকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে মামলাটি করেন। মানিক চন্দ্র দেবনাথ ইশ্বগঞ্জের রাজিবপুর ইউনিয়নের বিঘাগ্রা গ্রামের মৃত অবনি চন্দ্র দেবনাথের ছেলে। এদিকে, মামলার পরপরই পুলিশ মানিক দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জবানবন্দি প্রদানের জন্য ওই ছাত্রীকেও আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।থানা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মানিক চন্দ্র দেবনাথ ১০-১১ বছর আগে ভালুকা উপজেলার ধলীয়া গ্রামের ওই ছাত্রীর মেজ বোনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির পাশেই বসতি গড়েন তিনি। এদিকে, কিছুদিন আগে বোনের বাচ্চা হওয়ায় ওই ছাত্রী ভগ্নিপতি মানিক দেবনাথের বাড়ি গিয়ে রান্নাবান্নার কাজ করে দিত। ওই সুযোগে ভগ্নিপতি মাঝে মধ্যেই শ্যালিকার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিত। তখন ওই শিশু বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়ার কথা বললে মানিক তাকে বিভিন্নভাবে তাকে ভয় দেখাত।

গত ২৮ মার্চ মেয়েটি তার ওই বোনের বাড়িতে ঘুমাতে যায়। আর এই সুযোগে মানিক দেবনাথ ওই রাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিশুকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে, একই কায়দায় মানিক ওই ছাত্রীর সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের লোকজন ময়মনসিংহের একটি ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন ১২ বছরের ওই শিশু পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার এসআই রঞ্জন চন্দ্র জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আগামীকাল শনিবার ওই শিশুকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামি মানিক চন্দ্র দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *