ভাসানীর কাগমারী সম্মেলন ইতিহাসের টানিং পয়েন্ট : মোস্তফা

১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর আহŸানে ও নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন ছিল উপমহাদেশ তথা তৎকালিন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের টার্নিং পয়েন্ট বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তিনি বলেন, ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত কাগমারী সম্মেলন ছিল পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রথম স্বাধীনতার ডাক।

শনিবার ( ৮ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিলনায়তনে ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের ৬৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি ও সংস্কৃতির স্রোতধারা এক মোহনায় মেশার উদাহরণ খুব বেশি নেই। রাজনীতির কুশীলবেরা বরাবর ক্ষমতাকে মোক্ষ ভাবেন এবং তার হাতিয়ার হলো রাজনীতি। এর ব্যতিক্রম ছিল বাহান্ন, উনসত্তর ও একাত্তর, যেখানে জনগণ ছিলেন ‘নায়ক’। আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল সেই সময়ে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছিল। স্বাধীনতার পর আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও দেখেছি কীভাবে সমাজমানস আন্দোলিত হয়েছে।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ এক ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রম করছে। রাজনীতিকেরা ক্ষমতার চশমায় নিজেরা যেমন সবকিছু দেখতে অভ্যস্ত, তেমনি অন্যদেরও দেখতে বাধ্য করেন। তাঁরা ভুলে যান যে সমাজমানস তৈরিতে সংস্কৃতির ভূমিকাই মুখ্য।

তিনি বলেন, আমরা অনেকেই ইতিহাস ভুলে যাই এবং বর্তমানকে নিয়ে মশগুল থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু ইতিহাসে যার যেটুকু ভূমিকা, স্বীকার না করলে একদিন ইতিহাসই মুখ ফিরিয়ে নেবে। কাগমারী সম্মেলনকে সাংস্কৃতিক সম্মেলন বলা হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশাল এবং জাতির জীবনে সেই সম্মেলনের অভিঘাত হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। কাগমারী সম্মেলন থেকেই মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে সা¤্রাজ্যবাদবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। এই সম্মেলনেই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের আসসালামু আলাইকুম জানিয়েছিলেন।’ একটি নিরীহ ধর্মীয় সম্বোধন কীভাবে রাজনৈতিক প্রত্যয়ে রূপ নেয়, সেটা আজও গবেষণার দাবী রাখে। ভাসানীর ‘আসসালামু আলাইকুম শব্দটি স্বাধীনতার সমার্থক শব্দ হয়ে দাড়িয়েছিল।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া’র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম.এ. জলিল, জনতা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আবু আহাদ আল-মামুন (দীপু মীর), দলের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, যুগ্ম সম্পাদক মো. শামিম ভুইয়া প্রমুখ।

আলোচনা সভার শুরুর পূর্বে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *