মানবতার ফেরিওয়ালা ছুটে চলেছেন আপনার দরজায় খাবার পৌছে দিতে

আশুলিয়া প্রতিনিধি

করোনা ভাইরাসের থাবায় থমকে গেছে বিশ্ব। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম লকডাউন। ঘরে থাকার অনুরোধ। প্রয়োজনে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন।  বিশ্বের মত আমাদের দেশের নানা প্রান্তেও একই চিত্র। তবে পেশাগত কারণে কিছু মানুষ বাইরে থাকতেই হচ্ছে। যেমন চিকিৎসক, স্বাস্থীকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সাংবাদিকসহ আরও কয়েকটি পেশার মাুনষ।এতো কিছু মাঝে আমরা হয়তো ভুলে যাই। অভুক্ত বা নিম্মআয়ের মানুষের দরজায় খাবার পৌছে দেয়ার মানবতার ফেরিয়াওলাদের কথা।পরিবারের বাঁধা সত্ত্বেও আপনার দরজায় খাবার পৌছে দিতে প্রতিনিয়িত ছুটে বেড়েছেন তারা। তাদের জীবিকার তাগিদে নয়। নিজের সন্তান ও পরিবার থেকে দুরে থেকে, আপনার ও আপনার সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়াই তাদের মুল কাজ। আপনার মুখে হাসিই যেন তাদের রাজ্যের পাওয়া।

সারা দেশেই এমন মানবতার ফেরিওয়ালা ছুটে চলেছেন আপনার  বাড়ির দরজায়।তারমধ্যে  মানবতার সেবক আশুলিয়ার ধামসোনার সমাজ সেবক লুৎফর রহমান, আলহাজ্ব আকবর হোসেন, মনির খান, আনিসুর রহমান ও মানিক মন্ডলসহ অনেকে। তারা ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে খেঁটে খাওয়া মানুষকে খাবার পৌছে দেন । নিজেরা অন্ধকারের আভায়  থেকে আপনার ঘরের খোঁজ নিতেই দিন-রাত্রিই তাদের শত ব্যস্ততা।দেশের সবচেয়ে জনবহুল এই আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন। খেঁটে খাওয়া কয়েক লাখ মানুষের বসবাস এই ইউনিয়নে। বর্তমান পরিস্থিতি তারা প্রায় বেকার। ফলে খাবার সংকটে মেটাতে এমন উদ্যোগ।

ঘুরে দেখা যায়, আশুলিয়ার ঘোড়াপীড় মাজার এলাকায় আলহাজ্ব জাফর বেপারী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে  মানবতার এই ফেরিওয়ালারা কাজ করছেন। নিম্ম আয়ের মানুষের তালিকা তৈরি, যেন সঠিক মানুষটিই যেন খাবার পায়। তাদের খোঁজ নেয়া, তারপর বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কিনে প্যাকেট তৈরি। তারপর নির্দিষ্ট এলাকায় পৌছে দেয়া। এভাবেই সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা।নিম্ম আয়ের মানুষরা জানান, কাজ নেই, ঘরে খাবারও নেই। এমন অবস্থায় তারা আমাদের বাড়িতে খাবার পৗছে দিচ্ছেন। না হলে না খেয়েই থাকতে হতো। তাদের জন্য দোয়া রইলো।কথা হয় সমাজ সেবক লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এমন পরিস্থিতি ঘরে থেকে বাইরে আসতে পরবিারের বাঁধাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা। তবে মানুষের কল্যানে কাজ করা অন্যরকম নেশা। সেই টানেই ছুটে আসা।

দেশের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ মানুষের কল্যানে এগিয়ে আসুন। আপনার সহযোগিতা বেঁচে থাকবো আপনার প্রতিবেশি বা এলাকার খেঁটে খাওয়া অসহায় মানুষ।আলহাজ্ব আকরব হোসেন বলেন, প্রথমে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানাই তারা যেন ঘরে বাইরে না যান। আর তাদের মানবতার সেবায় কাজ করার চেষ্টা করছি।

ধামসোনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে খেঁটে খাওয়া হাজার হাজার মানুষের জন্য ত্রাণ দিচ্ছেন। তার নেতৃত্ত্বে সেই খাবার পৌছে দেয়ার মাধ্যমে মানুষের কল্যানে কাজ করার চেষ্টা করছি আমরা। কারণ দেশের নানা প্রান্তে আমাদের মত মানুষরা যদি এগিয়ে না আসে খেটে খাওয়া মানুষরা চরম দুর্ভোগে পড়বে।মনির খান জানান, যতটুকু পারছি নিজেদের সুরক্ষা বজায় রেখে মানব কল্যানে কাজ করছি। মানবতার সেবায় কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। আর মানুষের জন্য কাজ করার অন্যরকম আত্নতৃপ্তি খুঁজে পাই।

আনিসুর রহমান জানান, বাইরে থাকি বলে পরিবার অনেক দুচিন্তা থাকে। এরমাঝেও মানুষের কাজ করছি। দেশ ও পরবিার বাঁচাতে সবার প্রতি অনুরোধ আপনরা ঘরে থাকুন।আশুলিয়ার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেন জানান, মানবতার সেবায় জন্য এমন মানুষরা আছেন বলেই দেশে বেঁচে আছে। বিশ্বব্যাপী এমন দুর্যোগ মোকাবেলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।  তাই স্যালুট জানাই এমন মানবতার সেবকদের প্রতি। এগিয়ে  আসুন, দেশের কান্তিকালেই আপনার পরিচয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *