মুক্ত হাওয়ায় গৃহকর্মী ফাতেমা

অনলাইন ডস্কে

২০১৩ সাল থেকে যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন সেখানেই তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। প্রতিকূল-অনুকূল সব পরিস্থিতিতেই বেগম জিয়ার নিত্যসঙ্গী ফাতেমা। দলীয় কর্মসূচি কিংবা আদালত সব জায়গাতেই ছিলেন এই গৃহকর্মী। বেগম জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ ২ বছরেরও বেশি সময় জেল জীবনকে নিজের সঙ্গী করেছিলেন ফাতেমা। গতকাল তিনিও মুক্ত হলেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। কিন্তু মুক্তি পেলে কি হবে? সঙ্গী হিসেবে আছেন খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়ও। অবশ্য বেগম জিয়া তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের গাড়িতে গেলেও গৃহকর্মী ফাতেমা যান অন্য গাড়িতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা বেগম জিয়ার সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তিনি অন্য গাড়িতে করে ফিরোজায় উঠেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দিনটি বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের। তার কারাবন্দীর সঙ্গে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকেও যেতে হয় জেলে। কারাগার ও হাসপাতালে থেকে দীর্ঘ ৭৪ দিন সঙ্গ দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে। জেলে যাওয়ার পরপরই ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্যক্তিগত গৃহ পরিচারিকা হিসেবে ফাতেমা বেগমকে রাখার অনুমতি পান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর আবেদনের  প্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।

এরপর থেকেই কারাগারে খালেদা জিয়ার একমাত্র সঙ্গী ফাতেমা। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও নানা আলোচনা হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফাতেমাকে নিয়ে কথা বলেন।জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) একই কেবিনে থেকে ৭৫ বছর বয়সী নানা রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে সহায়তা করেছেন। তাকে বাথরুমে ধরে নিয়ে যাওয়া থেকে মুখে তুলে ওষুধ খাওয়ার কাজ করেন এই ফাতেমা। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ডায়াবেটিকসহ নানা রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়া রোজা রাখছেন। তবে হাসপাতালের দেওয়া খাবার তিনি খেতেন না। তার সঙ্গে থাকা গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম প্রতিদিন তার পছন্দের ইফতার তৈরি করে খাওয়াতেন।

ঢাকার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ২৫ মাস আগে দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে গিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।  সেদিনও গাড়িতে সঙ্গী ছিলেন খালেদার সেবিকা ফাতেমা। সেখান থেকে কারাগারে। সরকার গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। বিএনপি নেত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হয় ফিরোজা বাসভবনটি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফাতেমাও উঠেন সেই বাসায়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *