রাণীশংকৈলে দোকানের ভিতর আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ

রাণীশংকৈল প্রতিনিধিঃ

দেশে শৈত প্রবাহে সূর্য়ের মুখ দেখা ভার! একটু রোদ্রের আশায় ক্উে মোটা কাপড়ে আর কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টায় দিনানিপাত করছেন। সবচেয়ে সমস্যায় রয়েছেন গ্রামের গরীব ,বৃদ্ধ আর খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ঘন কোয়াসার চাঁদরে সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না এমন নিত্যদিনের অবস্থা থাকলেও দু’দিন থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে শীতের তীব্র প্রকোট বাড়ায় ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে বয়ে যাওয়া শৈতপ্রবাহে রীতিমত কাবু উপজেলার কলেজ পাড়ার ইয়াছিন আলীর ছেলে পান বিড়ির দোকানদার জাবেদ আলী। এই ঘন কুয়াশায় শীতকে পরাজিত করতে তিনি এক অন্যরকম উপায় বের করেছেন যা অনেকের কাছেই হাস্যকার হয়ে দাড়ালেও কিন্তু শীতের কাছে পরাজিত হওয়ার মত মানুষ নন জাবেদ আলী। বয়স আনুমানিক ৩২বছর। ক্ষুধার ত্বারনায় নিত্যদিন ভোরে দোকান খোলেন শ্যামলী কোচ কাউন্টারের পাশে । ঢাকা থেকে কোচে যাত্রী ফিরলেই দোকানদারী একটু ভাল হয়। সে আশাতে ভোর বেলা দোকান খোলা। কাঠের ঘুন্টিতে তার পান বিড়ির দোকান। তার দোকানে গিয়ে স্বরেজমিনে দেখা যায়, বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে দু’হাত পায়ের নিচে ঝুলিয়ে কি যেন করছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাটির সানকিতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারন করার চেষ্টা করছি। একটু মাথা উচিয়ে তার দোকানের ঘুন্টির ভিতর দেখা যায়, মাটির একটি সানকিতে কাঠ এবং কয়লা জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করছেন। দোকানদার জাবেদ কে তার পরনের লুঙ্গিতে আগুন লাগতে পারে বলে সচেতন করলে তিনি বলেন “ সরকারের দেওয়া হাজার হাজার কম্বল গরিব মানুষের জন্য আসলেও আমাদের ভাগ্যে কই স্যার”? খবর নিয়ে জানা যায় সরকারি বরাদ্বের কোন কম্বল তার কপালে জোটেনি? সে কারনেই সে এমন প্রাকৃতিক নিয়মে শীত নিবারন করছেন। উপজেলার এ প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমনি হাজারও জাবেদের মৃদ্যু কষ্ট চাপা পরে রয়েছে। মোটা কাপর কিংবা কম্বল পাওয়ার আশায়, তবুও প্রকৃতি নিষ্ঠুর হাড় কাপানো শীতের কাছে হাড় মানতে নারাজ ‘পান বিড়ির’ দোকানদার জাবেদ আলী !

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *