শেরপুরে মালিকানাধীন জমিতে সরকারি খাল খনন

শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি

খরা মৌসুমে নদী বা খালে পানি থাকেনা। এতে আবাদী জমিতে সেচকাজে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় খাল ও নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষকদের। তাছাড়া খাল ও নদী খনন না  থাকায় বৃষ্টির পানিগুলো আবাদী জমিতে ঢুকে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। আর এক কারণে সরকারিভাবে খাল বা নদী নাব্যতা ফেরাতে পুন:খননের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। তবে সরকারিভাবে খালের নকশা অনুযায়ী ড্রেজার দিয়ে খনন করার পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির মধ্যে দিয়েও জোরপূর্বক খনন করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কাজের নিযুক্ত ঠিকাদার। এমনই অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার শেরপুরের খামাকান্দি ইউনিয়নের ঘোরদৌড় মেঘা দিগদাড় খাল খনন বেলায়। খালের প্রকৃত নকশা ব্যতিত স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইশারায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বা সম্পত্তির মধ্য দিয়ে খাল খননের পায়তারা চলছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খননকাজ বন্ধে ৮ জুলাই শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে  স্থানীয় ২০ জন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় গ্রামবাসীর আবাদী জমির পানি নিষ্কাষণ ও সেচকাজে সুবিধা দিতে একই মেঘা দিগদাড় খাল সরকারিভাবে বিএডিসি প্রকল্পের আওতায় খাল খননের কাজ শুরু করে।  প্রায় ১ হাজার ৬’শ মিটার মেঘা দিগদাড় খাল খনন প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে বগুড়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবলু এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্ত¡াধিকারী কামরুজ্জামান মাসুদ সম্প্রতি ওই খাল খননের শুরু করেন। এতে সরকারি নকশা ব্যতিত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে কোন অধিগ্রহন ছাড়াই খাল খননের চেষ্টা করছে। এ কাজ বন্ধে ভূক্তভোগী এলাকাবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

খাল খননে ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমি নিয়ে ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান, মেহেদী, ইলাম উদ্দীন, আব্দুল খালেক, মাসুদরানা, আলতাব হোসেন, জাকারিয়া, জিলহজ¦, আবু সাইদসহ একাধিকরা জানান, খননকৃত খালের প্রকৃত নকশা অনুযায়ী খনন করা হচ্ছেনা, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার আমাদের ব্যক্তিগত জমিও খালের নকশাভূক্ত করেছে, সেক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহন করতে হয়। তবে এভাবে আমাদের জমির উপর দিয়ে যদি অবৈধভাবে খাল খনন করে তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবো। তাই খনন কাজ বন্ধে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট খামারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, ঘোরদৌড় মেঘা দিগদাড় খালটি পূর্বেই ছিল, অভিযোগকারীরাই ভরাট করে নিয়ে আবাদী কাজ করছে এবং নিজের সম্পত্তি বলে দাবী করছে। সেক্ষেত্রে পূর্বের নকশা অনুযায়ী খাল খনন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে খাল খনন কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবলু এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত¡াধিকারী কামরুজ্জামান মাসুদ বলেন, প্রকল্পটির নকশা ও টেন্ডার কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ করছি, তবে ব্যক্তি মালিকাধীন জমি খালের নকশায় সম্পৃক্ত কিনা আমার জানা নেই।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, খাল খনন বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর দেয়া অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *