সাংবাদিক রাহাত খান আর নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা :

কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। রাহাত খানের স্ত্রী অপর্ণা খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বাসাতেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন রাহাত খান।
শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে অপর্ণা খান নিজ ফেসবুকে রাহাত খানের মৃত্যুর খবর জানান। পরে তিনি আরও  বলেন, ‘রাহাত খান রাত সাড়ে ৮টায় তার ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় মারা যান। রাতে তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। আগামীকাল শনিবার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। তবে সময় এখনও ঠিক হয়নি।’দাফনের আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলা একাডেমি ও শহীদ মিনারে নেয়া হতে পারে রাহাত খানের মরদেহ— জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন রাহাত খান। করোনাকালে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া হওয়ায় তার সার্জারি করা যাচ্ছিল না বলে বাসাতেই অবস্থান করছিলেন গুণী এই সাংবাদিক।রাহাত খান বাংলাদেশের খ্যাতিমান একজন কথাশিল্পীও। ছোটগল্প ও উপন্যাস উভয় শাখাতেই তার ছিল অবাধ বিচরণ। সাংবাদিক হিসেবেও রাহাত খানের অবদান উল্লেখযোগ্য। ষাটের দশক থেকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন রাহাত খান। বিখ্যাত সিরিজ ‘মাসুদ রানা’ চরিত্রটি তার অনুসরণেই তৈরি করা।রাহাত খান ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত হলেও কর্মসূত্রে রাহাত খান আপাদমস্তক ছিলেন সাংবাদিক।

১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে রাহাত খান কিছুদিন জোট পারচেজ ও বীমা কোম্পানিতে চাকরি করে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে যোগদান করেন। তারপর একে একে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন।

১৯৬৯ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা জীবনের হাতেখড়ি। পরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকা। শেষবেলায় এসে তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অনিশ্চিত লোকালয়’ প্রকাশিত হয়। তার পরবর্তী উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘অমল ধবল চাকরি’, ‘ছায়াদম্পতি’, ‘শহর’, ‘হে শূন্যতা’, ‘হে অনন্তের পাখি’, ‘মধ্য মাঠের খেলোয়াড়’, ‘এক প্রিয়দর্শিনী’, ‘মন্ত্রিসভার পতন’, ‘দুই নারী’, ‘কোলাহল’ ইত্যাদি।

তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫), সুফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২), ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে (১৯৯৬) ভূষিত হন।

রৌমারীতে সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দু‘গ্রুপে মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়া

রৌমারী সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধের পর থেকে দখলবাজদের উৎপাত বেড়ে যায়। অবশেষে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দু‘গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও...

Read more

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম
সহ-সম্পাদক : এডভােকেট-মোঃ আবু জাফর সিকদার
প্রধান প্রতিবেদক: মোঃ জাকির সিকদার

কার্যালয় : হোল্ডিং নং ২৮৪, ভাদাইল, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
x