সাভার ধামরাই আশুলিয়ায়  ব্যাটারী জ্বালিয়ে অবৈধ সিসা তৈরি কারখানা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

 

সাভার আশুলিয়া ধামরাইয়ে অবাধে অবৈধ কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কারখানাগুলোর অবস্থান। এই কারখানাগুলোর কারণে ব্যাটারির অ্যাসিডের প্রকট গন্ধে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, ব্যাটারির বর্জ্য পুড়িয়ে সিসা তৈরি করলে তা আশপাশে থাকা মানুষের শরীরে পয়জনিং (রক্তকণিকা ও মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতি করা) সৃষ্টি করে। এর ফলে মানসিক বিকৃতি, রক্তশূন্যতা ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন হতে পারে।

ধামরাইয়ে কারখানাগুলোর আশপাশে রয়েছে দৈনিক বাজার ও বসতবাড়ি। এগুলো হলো ডুলিভিটা, পাড়াগ্রাম, ভাড়ালিয়াসহ ধামরাইয়ের আরো বেশকিছু স্থানে রয়েছে এই কারখানাগুলো।

এছাড়া আশুলিয়ার কুড়গাঁও ব্রীজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি, চারাবাগ এবং সাভারের বিরুলিয়া হাই পয়েন্ট রয়েছে বিশাল কারাখানা আর এর মালিক নূরে আলম নিজের দাপট দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ এই ফ্যাক্টরি। এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, নূরে আলম একজন মাদক কারবারী সে নিজের দাপট দেখিয়ে এই কারখানা দীর্ঘদিন যাবৎ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের গ্রামারের গাছপালায় ফল ধরছেনা ধরলেও সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গরু ছাগলসহ গবাদী পশুর বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধির দেখা দিয়েছে তাছাড়া আমাদের নিজেদের স্বাস কষ্ট সমস্যা বাচ্চাদেরকে এরকম সমস্যায় ভোগতে হচ্ছে আমরা চাই প্রশাসন এর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

বুধবার সরেজমিন সাভার মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। কেউ পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করছেন। কেউ ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড বের করে সংরক্ষণ করছেন। এক শ্রমিক জানান, চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লায় অ্যাসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বর্জ্য বা প্লেট সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিলে তা গলতে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক পাখা থেকে বাতাস দেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সিসা তৈরি হয়। পুরোনো ব্যাটারি থেকে প্লেট খুলে তিনি টনপ্রতি ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই কাজ করতে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না।শ্রমিক আসাদুল জানান, কারখানায় দিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত ব্যাটারি থেকে প্লেট খোলা ও অ্যাসিড সংরক্ষণের কাজ করা হয়। আর রাত ১০টার পর প্লেটসহ আনুষঙ্গিক জিনিস পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়।

কারখানার ব্যবস্থাপক বগুড়া সদরের নারুলী তালপট্টি এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল জানান, এখানে ১২জন শ্রমিক কাজ করেন। দিনে ছয়জন আর রাতে ছয় জন। তাঁরা দিনে ব্যাটারি কাটেন আর রাতে গলান। জুয়েল বলেন, ‘এতে আমি তো পরিবেশের কোনো ক্ষতি দেখি না। যেকোনো কোম্পানি খুললে হেনে গন্ধ থাকেই। পোলট্রি খামারে গন্ধ থাকে। এনেও ময়লা–আবর্জনার গন্ধ আছে। আমরা যে সিসা বানাই, তা সব জাগায় কাজে লাগে। সিসা ছাড়া মোবাইল অয় না। টিভি, ফ্রিজ, টিন বানাইতেও সিসা লাগে।’

কারখানার ব্যবস্থাপক জানান, এক রাতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি সিসা হয়। এ জন্য প্রায় দেড় টন ব্যাটারির প্লেট লাগে। ব্যাটারির ওপরের অংশ প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরিতে কাজে লাগে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন তাঁরা। উৎপাদিত সিসা তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন চায়না ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করেন।

স্থানীয় দুই বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কারখানার মালিক বুলবুলকে হাজারও বার কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বলার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না। দিনে অ্যাসিড, রাতে ধোঁয়ার গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

মুঠোফোনে কারখানার মালিক বুলবুল বলেন, ‘আমি একলা না তো, সারা বাংলাদেশেই এই কাম চলছে। আমি সাভার আশুলিয়া ধামরাইয়ে সবাইকে দিয়াই খাই একা খাইনা আমার সবাইকে মেনেজ করা আছে। রাত ১০টার পরে চুলা জ্বালাই সব সিসা চায়নারা ন্যাই। বাকি থাকে না। নগদ ক্যাশ দ্যাই। কেজিতে এক-দেড় ট্যাহা থাকলেও লাভ একবারে স্বর্ণের মতো।কারখানার অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাই আমি আগেই বলেছি সবাইকে মেনেজ করা আমার অনুমতি লাগেনা। এজন্য কোনো সমস্যা হয় না। ঝামেলা জন্য নিই না।

উত্তর বঙ্গের এই বুলবুল দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা জেলার সাভার আশুলিয়া ধামরাই নিজের ফ্যাক্টরিসহ তিন ডজন খানেক ফ্যাক্টরি তার নিয়ন্ত্রণে চলে। বুলবুল তার নিজের এলাকায় কয়েকটি মামলার ফেরারি আসামি এ কথাগুলো তার এক নিকটতম লোক আমাদেরকে বলছিলেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন বেশ কয়েকবার প্রশাসন ভেঙ্গে দিয়ে জরিমানা করলেও আবারো এসে কারখানা চালু করছে এদের কোন ভাবেই দমানো যাচ্ছেনা। আমরা আশাকরি সংশিলষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এব্যাপারে যোগাযোগ করলে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *