সিংগাইরে আঞ্চলিক মহাসড়কে ধস ২৫৪ কোটি টাকার অপরিকল্পিত সড়কের ভবিষ্যৎ অন্ধকার

মিজানুর রহমান
 সিংগাইরে হেমায়েতপুর টু সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের ফুটপাতসহ আরসিসি ঢালাইয়ের বিভিন্ন জায়গা ধসে পড়ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজ পুরোপুরি বুঝিয়ে না দেয়ার আগেই ৩১ কি.মি. সড়কের বিভিন্ন জায়গা দেবে এবং ধ্বসে পড়ছে। অপরদিকে ২৬ কি. মি. সড়কের গাইডওয়াল নির্মাণকালেই নি¤œমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেয়নি কোন ব্যবস্থা। অথচ ঠিকাদাররা তাদের সিংহভাগ বিল উত্তোলন করে নেয়াতে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
অন্যদিকে সম্প্রতি এ সড়ক নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠেছে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এবং নেট দুনিয়ার অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে। এরইমধ্যে সরেজমিনে এ সড়ক পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় এমপি কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এবং মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী গাওসুল হাসান মারুফ।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সড়ক নির্মাণে অনিয়ম  এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে এখানে রাম রাজত্ব কায়েম করে লোপাট করা হয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা এমনটাই দাবি করেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।
জানা গেছে, সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের ভাষা শহিদ রফিক সেতু হতে মানিকগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত ৩১ কি.মি.  আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৫৪ কোটি টাকা। তবে ৫ টি প্যাকেজে নির্মিত সড়কটি নির্মাণের শুরুতেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করে নি¤œমানের উপকরণ সামগ্রী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাদের অনিয়মের খবর বেশ কিছু শীর্ষ স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতে কোন প্রকার ক্ষোভ কিংবা ব্যবস্থা না নেয়াতে বিষয়টি রহস্যজনকভাবে নিচ্ছেন সুশিল সমাজের বাসিন্দারা। সড়কটি নির্মাণে তাদের ছিলনা কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এ সড়কটিতে শুধু ফাঁটল ও ধস নয়, সড়কটি এখন মৃত্যু পুরিতে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা, তাছাড়া দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সড়ক নির্মাণে কোন পরিকল্পনা এবং আইলাইন না থাকাতে সড়ক নির্মাণের পর হতে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধ:শতাধিক প্রাণ হানির মত ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীরা। প্রায় ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কটির ভবিষ্যত কি তবে অন্ধকার! এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় সচেতন সমাজে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির ধল্লা শহিদ রফিত সেতু হতে গাড়াদিয়া পর্যন্ত প্রায় ২০ কি.মি. পর্যন্ত ব্যাপক ধস ও ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও সড়ক দেবেও গেছে। ধসে পড়া, দেবে যাওয়া এবং ফাঁটল কবলিত জায়গা মেরামত করছে শ্রমিকরা। তবে এটি কোন রকম ‘নয় ছয়’ বলে মন্তব্য করেন বিশিষ্ট জনেরা। বন্যার পানি সড়ক থেকে কমপক্ষে ১০/১২ আবার কোথাও কোথাও প্রায় ২০ ফুঁট নিচে। পূর্বের মত খালে নেই তেমন ¯্রােতের তীব্রতা। এতেই যদি সড়কের এ হাল হয় তবে বন্যার পানির ছোঁয়া লাগলে অবস্থা আরো বেগতিক হবে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা। জেলা পরিষদের সদস্য এ্যাড. কোহিনুর ইসলাম সানি, সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের রমজান আলী, জয়মন্টপ গ্রামের ফার্মাসিষ্ট সেলিম হোসেন, গোবিন্ধল গ্রামের খোকন মিয়াসহ অনেকেই সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়ম ও দূর্নীতির মধ্য দিয়েই নির্মিত হয়েছে এ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। চুরি তো চুরি তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো করেছে পুকুর চুরি। তারা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণেও অপচয় হয়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। অন্যদিকে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্ন তুললেও বক্তব্য নেয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক নির্মাণে দূর্ণীতির কথা অস্বীকার করে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাওসুল হাসান মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, ৩১ কি.মি. সড়কের ৩০ শতাংশ জুড়ে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে যাতে এ সমস্যা সমাধান হয় সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *