সড়ক দুঘর্টনায় আর কোন অথৈকে হাড়াতে চাই না

৪ নভেম্বর,১৯ মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত অথৈর মনিষা বর্মন হত্যাকান্ডের বিচার ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরন প্রদানের দাবীতে আয়োজিত মানবন্ধন কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, সড়ক দুঘর্টনায় আমরা আর কোন অথৈকে হারাতে চাই না। আর কোন মায়ের বুক যাতে খালি না হয় সে জন্য সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত অথৈর মনিষা বর্মন হত্যাকান্ডের বিচারও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরন প্রদানের দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত রাজনীতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, দুঘর্টনায় নিহত অথৈর মনিষা বর্মনের পিতা অনিল বর্মন, দৈনিক মুক্ত খবরের সাব এডিটর কাজী ফারুক, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান এম এ ভাসানী, বাংলাদেশ জাসদ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন প্রমুখ।

সংহতি প্রকাশ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বাস চালকের খামখেয়ালিপনা, প্রতিযোগিতাপূর্ণ অসুস্থ মনোভাব এবং নিয়ম না মেনে গাড়ি চালানোর কারণেই অধিকাংশ সড়ক দুঘর্টনা ঘটছে। বাসের চালক কন্ডাক্টর হেলপারদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আর কতো মায়ের বুক খালি হবে, আর কতজনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হবে সেটাই আমাদের বড় প্রশ্ন। রাস্তার পাশে বাস-ট্রাক উঠিয়ে নিবির্চারে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ কতে হবে দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা। একের পর এক ঘটনা ঘটছে অথচ সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ দায় স্বীকার করছে না, এটাই জাতির দুভার্গ্য।

তিনি বলেন, দেশে যাতায়াতজনিত দুঘর্টনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে দুঘর্টনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক দুঘর্টনায় মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে কিছুতেই যেন রক্ষা নেই এ দেশের মানুষের। গত ৪ নভেম্বর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ঠিকানা পরিবহনের বাস চাপায় নিহত হয় অথৈর। এখনও তার ঘাতককে গ্রেফতার করে নাই পুলিশ। যা অত্যান্ত দু:খজনক।

তিনি আরো বলেন, আমরা চাই, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে যে-কোনো ধরনের দুঘর্টনা এড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে এবং চালকদের দক্ষতা বাড়াতে কাযর্করী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে। সারা বছর যেন পথের যাত্রীরা নিরাপদ থাকেন, এ জন্য প্রকৃত অথের্ই সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের কাযর্কর উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প থাকা উচিত নয়। সড়ক দুঘর্টনায় মৃত্যুর হার কমাতে হলে দোষীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকেও সড়কপথে ভ্রমণ ও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ ও শিক্ষিত চালকের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পরিকল্পিত ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে মতো এমন মমাির্ন্তক মৃত্যু রোধ করতে। দুঘর্টনা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য নয়, জাগ্রত হোক আমাদের বিবেকবোধ ও মনুষ্যত্ব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, সড়ক দুঘর্টনা বন্ধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে চাইলেও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তাঁরা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সরকারকে জিম্মি করে আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধন করতে চাপ সৃষ্টি করছে। আর শ্রমিকদের এতে নেতৃত্ব দিচ্ছে সরকারী দলে থাকা নেতারাই। ফলে তবে নতুন আইন কার্যকর করার বিষয়টি শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে।

তিনি অথৈ বর্মন হত্যার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরন প্রদানের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে, ডিসিসি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীতের নির্বাচনী ইশতেহারের সড়ক দুঘর্টনা রোধে পরিকল্পনা ও করণীয় ঘোষনারও দাবী জানান।

সভায় প্রয়াত অথৈর মনিষা বর্মনের পিতা অণিল বর্মন পরিবারের পক্ষ থেকে কণ্যা হত্যার বিচারের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সড়কমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে স্বপন কুমার সাহা বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি আগের তুলনায় কঠোর, কিন্তু সেই আইন মানাতে যদি বাধ্য করা না যায়, তবে শুধু আইনের কঠোরতায় ফল মিলবে কি? দরকার আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘কঠোর’ হওয়া, সেটাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ। নতুন আইনের বিষয়গুলো প্রচার ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই সাফল্য আসবে।
বার্তা প্রেরক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *