সাভার বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডল ও তার ব্যক্তিগত পিএস শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডল আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ইউনিয়ন বাঁশি অতিষ্ঠ ছিল। গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে সেলিম মন্ডল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গ পলাতক রয়েছেন। এতদিন তার ভয়ে এলাকাবাসী নিশ্চুপ ছিলেন এবং শেখ হাসিনার পতনের পথ থেকে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডল ও তার ব্যক্তিগত পিএস শাহ আলম সহ সাঙ্গবাঙ্গদের বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একাধিক ইউপি সদস্য এই প্রতিবেদককে জানান, সেলিম মন্ডল নিজে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো.কামরুল হাসানের মাধ্যমে পরিষদের ফান্ড থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ও তার ব্যক্তিগত পিএস শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার বিচার সালিশের সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে নিরীহ অসহায় মানুষের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুর্নীতিবাজ সেলিম মন্ডল ও তার ব্যক্তিগত পিএস শাহ আলম। তবে বেশিরভাগই জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মানুষ আসতো অত্র এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত পিএস শাহা আলমকে দেখিয়ে দিত এবং বলতো শাহ আলমের সঙ্গে আলাপ করেন।
এলাকাবাসী আরো বলেন, আমাদের এলাকায় যেকোনো ঘটনা ঘটলেই থানায় না গিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন কিছু ইউপি সদস্য। কিছু ওয়ার্ডের সদস্যরা ছিলেন সেলিম মন্ডলের অনুসারী ও পুরো ইউনিয়নে ছিল সেলিম মন্ডলের দলীয় লোক তাই ওই সমস্ত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা ওয়ার্ড ভিক্তিক বিচার সালিশ করতে সাহস পেত না চেয়ারম্যানের ভয়ে। সেলিম মন্ডলের লোকজন প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেই সেট করা ছিল। প্রকার ঘটনা ঘটলে সেলিম মন্ডলকে জানিয়ে দিত এবং ভুক্তভোগীদের থানায় যেতে দিত না। এক পর্যায়ে জোরপূর্বভাবে চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিচারের জন্য নিয়ে যাইতেন।
এলাকা মানুষ যখন চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হতো তখন সেলিম মন্ডল বাদী-বিবাদীকে ডাকতেন এবং উভয়ের কাছে টাকা পয়সা দাবি করতেন এবং যে বেশি টাকা দিত তার পক্ষে বিচার সালিশ সমাধান করে দিতেন। তবে বেশিরভাগই দুই পক্ষ থেকে টাকা নিতেন তার ব্যক্তিগত পিএস শাহ আলমের মাধ্যমে চুক্তি অনুযায়ী টাকা খেয়ে তারিখের পর তারিখ দিতেন এই শাহ আলম অবশেষে উভয়পক্ষ বিচারের আশায় প্রতিদিন ঘোরাঘুরি করতে করতে বিরক্ত হয়ে, অবশেষে নিরীহ মানুষ গুলো বিচারের আশা ছেড়ে দিয়ে,টাকার আশায় ঘুরতে থাকেন। তাদেরকে টাকাও ফেরত দিত না এবং টাকা চাইতে গেলে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দিতেন।
সেলিম মন্ডল ও তার সহযোগী একান্ত পিএস নামে পরিচিত শাহ আলমের যুগসাঁজেসে টাকা লেনদেনের রাফা দাফা হত, আর এভাবেই বিগত আড়াই বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায় দুর্নীতিবাজ সেলিম মন্ডল ও তার পিএস শাহ আলম। এলাকাবাসী এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন এলাকার মানুষের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এই সেলিম মন্ডল শুধু বিচার সালিশের টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিলনা। তার ছিল বিস্তীর্ণ চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক, জমি দখল, সরকারি খাদ জমি দখল, অটো চালকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি থেকে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সহ মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেওয়াসহ এমন কোন অপকর্ম বাদ দেয়নি,সেলিম মন্ডল ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। অনেক ইউপির সদস্যও দুর্নীতিবাজ সেলিম মন্ডলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার সাহিদার কাছ থেকেও ভেজাল জমির সমাধান করে দিবেন বলে, শাহ আলমের মাধ্যমে নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন এবং কাকাব এলাকার জালাল নামের এক জমির মালিকের থেকে একই কায়দায় পি এস শাহ আলমের মাধ্যমে ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন ও বাগ্নিবাড়ির ফকিরপাড়ার শহীদুল্লাহ ফকিরের কাছ থেকে তার ছেলেকে এনাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির বাবদে নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। শেষে টাকাও ফেরত দেয় নাই এবং শহীদুল্লাহ ফকিরের ছেলেকেও ভর্তি করাইতে পারে নাই।
এই দুর্নীতিবাজ সেলিম মন্ডল ভুক্তভোগীদের কোন প্রকার টাকা পয়সা ফেরত দেয় নাই এবং তাদেরকে কোন সমাধানও আজ পর্যন্ত দেয় নাই। এরকম হাজার খানেক অনিয়ম দুর্নীতি জমি দখল বাড়ি দখল,ভুক্তভোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, আমরা এবার সকলে মিলে এই সেলিম মন্ডল ও তার পিএস শাহ আলম এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গ সহ তাদের বিরুদ্ধে একে একে মামলা করা হবে।
এসকল অভিযোগের বিষয় নিয়ে,সেলিম মন্ডলের মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এবং তার একান্ত পিএস শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
সাভার মডেল থানা সূত্রে জানা যায়,সেলিম মন্ডল এর বিরুদ্ধে হত্যার সহ একাধিক মামলা রয়েছে,তিনি পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজছেন। আমাদের অনুসন্ধান ধারাবাহিকভাবে চলবে…..













