সারা দেশে চলমান বন্যার্তদের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘গণত্রাণ’ কর্মসূচিতে অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে রবিবার বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ২৩ লাখ ৩ হাজার ৬০৩ টাকা সংগৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে গত চার দিনে বিভিন্ন খাতে মোট ব্যয় করা হয়েছে ৩০ লাখ ১২ হাজার ৯৭০ টাকা। রবিবার বিকাল পর্যন্ত মোট ৫০ ট্রাকভর্তি ৫০ হাজারের অধিক ত্রাণসামগ্রী বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতি ট্রাকে ৮০০ থেকে ১০০০টি রিলিফ প্যাকেজ (এক পরিবার) এবং ২০-৩০ কেস পানি দিয়ে পরিপূর্ণ করা হয়।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানানো হয়। প্রতিটি প্যাকেজ একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাদ্য এবং ওষুধের প্যাকেজ তৈরি করা হয়। এর বাইরে বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩ হাজার প্যাকেজ হেলিকপটারযোগে বন্যাকবলিত দুর্গম অঞ্চলগুলোতে বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণত্রাণ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। রবিবার গণত্রাণ কর্মসূচির চতুর্থ দিন সকাল থেকেই জিমনেসিয়াম এলাকায় ত্রাণ দিতে মানুষের ঢল নামে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক, সিএনজি, ভ্যান ও রিকশায় বন্যার্তদের জন্য খাবার, জামাকাপড়, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসেন। বিকালই বিপুলপরিমাণ ত্রাণ সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে দেখা যায় স্বেচ্ছাসেবকদের।
এর আগে শনিবার থেকে টিএসসি ও ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া ত্রাণে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ত্রাণ সংগ্রহ চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মাঠসংলগ্ন জিমনেসিয়ামে। ত্রাণসামগ্রী মাঠের গ্যালারি ও জিমনেসিয়ামের ভেতরে স্তূপ করে রাখা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক লুত্ফর রহমান, মিডিয়া ও কমিউনিকেশন উইংয়ের রেজওয়ান আহমদ রিফাত, গণত্রাণ সংগ্রহ টিএসসি বুথের সমন্বয়ক সানজানা আফিফা অদিতি কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে গণত্রাণে পাওয়া সহায়তার ব্যয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, মোট পাওয়া অর্থের মধ্যে টিএসসিতে নগদ ৪ কোটি ৩৯ লাখ ১ হাজার ৬৯০ টাকা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৬২ লাখ ৯৪ হাজার ১২০ টাকা, ব্যাংকিং মাধ্যমে ২১ লাখ ৭ হাজার ৭৯৩ টাকা ৬৮ পয়সা সংগ্রহ করা হয়। ব্যয়কৃত অর্থ ত্রাণসামগ্রী, জরুরি ওষুধ, ত্রাণ প্যাকেজিং ব্যাগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের খাবার ক্রয় করতে ব্যয় হয়। এর মধ্যে খেজুর বাবদ ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টাকা, মুড়ি বাবদ ৪ লাখ ৩০০ টাকা, বিস্কুট বাবদ ২ লাখ ১ হাজার ৫০ টাকা, গুড় ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৪০ টাকা, ভলান্টিয়ারদের রাত ও দুপুরের খাবার ৩৯ হাজার টাকা, গাড়ির সঙ্গে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষুদ্র সম্মানী ৮ হাজার টাকা, পলিথিন ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা, বস্তা ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, চিনি আড়াই লাখ টাকা, রিকশা ও ভ্যান ভাড়া ৬৫০ টাকা এবং দড়ি, কলম ও কার্টার ৭৩০ টাকা ব্যয় হয়। গণত্রাণ কর্মসূচিতে পাওয়া অর্থসামগ্রী বিভিন্ন জেলায় সশরীরে এবং প্রশাসনের সাহায্যে বিতরণ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।













