ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়ার ছোট কালিয়াকৈর বনবিভাগের বাড়ইপাড়া রেঞ্জের সংরক্ষিত জমি উদ্ধার অভিযানে হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা ছিল মিথ্যা ও পূর্বপরিকল্পিত সাজানো নাটক বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,ঘুষখোর,চাঁদাবাজ ও মামলাবাজ বন কর্মকর্তা মহিদুর রহমান জয় একজন বিতর্কিত ব্যক্তি। তিনি বিভিন্ন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বন বিভাগের আওতায় থাকা জমির ছাড়পত্রের নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিরুলিয়া ইউনিয়ন ছোট কালিয়াকৈর স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিরা জানান, অনেকেই মহিদুর রহমান জয়ের মিথ্যা ও ভিক্তিহীন মামলা মোকাবেলা করছেন। তার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী বহু স্থানীয় বাসিন্দা।
এছাড়াও তারা অভিযোগ করেন,মহিদুর ও তার সহযোগী শহিদুল্লাহ কায়সার রং কারখানার মালিক লোকমান হোসেন ঢালীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন বলে জানান ভুক্তভোগী লোকমান ঢলি।
বন কর্মকর্তা মহিদুর রহমান জয় বিরুলিয়া বন বিটে আসার পর থেকেই ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন ঢালির কাজ থেকে পর্যায়ক্রমে দুই বছরে এযাবৎ ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন সময় চাঁদা ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী লোকমান হোসেন ঢালী।এত টাকা ঘুষ নেওয়ার পরেও তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। গত দুইটা দুই মাস যাবত আবারো লোকমান মিয়ার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন বন কর্মকর্তা মুহিদুর রহমান জয়। লোকমান হোসেন ঢালি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, মূলত এ কারণেই তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মহিদুর হামলার স্বীকার হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে লোকমান হোসেন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে একটি নাটকীয় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এলাকাবাসী গণমাধ্যমকে প্রশ্ন তুলেছেন,যদি লোকমান হোসেন ঢালী জমির দখল করে থাকে সে ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ জমিতে মাত্র চারজন বনকর্মী নিয়ে আন-ডিউটি অবস্থায় শুক্রবারে সরকারি ছুটির দিনে প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা বা নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান করা কতটুকু সচ্ছল ও আইনগত বৈধতা আছে এ নিয়ে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাছাড়া যে জমি নিয়ে লোকমান ঢালিকে উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল সেই জমিতে লোকমান মিয়ার পক্ষে মহামান্য হাইকোর্টের নোটিশের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। মহিদুর ও তার লোকজন মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে উল্টো লোকমান ও তার ছেলেরকে মারধর করে কোর্টের ঝোলানোর নোটিশের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে চুরে ফেলেছেন।এবং মহিদুর রহমান জয় মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশকে অমান্য করে আদালত অবমাননা করেছেন বলে সচেতন মহল মনে করেন। বন-কর্মকর্তা মহিদুর দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে এটি একটা সাজানো পূর্বপরিকল্পিত ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা মাত্র।
অন্যদিকে,কালিয়াকৈর বনবিভাগে মহিদুর রহমানের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানাযায়, তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারি মামলা সহ ঘুষ গ্রহণ ও হামলার মতো বিভিন্ন প্রকার একাধিক অভিযোগ রয়েছেন। যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রচারিত হয়েছে।
অভিযুক্ত বন কর্মকর্তা মহিদুর রহমান জয় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,এসব মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পূর্বে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে সঠিক ও স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
এলাকাবাসীর দাবি,এ-দুর্নীতি ও ঘুষ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত কর্মকাণ্ডের মূলহোতা এই বন- কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ”র সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা। মহিদুর রহমানের জয়ের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে,এসব বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানান একাধিক গণমাধ্যম কর্মী।













