আশুলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে হানিট্র্যাপ চক্রের এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৫ জুন) বিকেল ও রাতে আশুলিয়ার জামগড়া মীরবাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মুন্সিরচর গিমাডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে ইয়াছিন শেখ (২৫) এবং মাগুরা সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের অলিয়ার রহমানের মেয়ে সুমাইয়া জান্নাত ওরফে সুমি আক্তার (২৫)। তারা বর্তমানে আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ জানায়, একটি ডেটিং অ্যাপে ভুক্তভোগী পলাশ হোসেনের সঙ্গে সুমাইয়া জান্নাতের পরিচয় হয়। ফোনালাপের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে সুমাইয়া তাকে নিজ বাসায় দেখা করতে আমন্ত্রণ জানান।
গত ২০ জুন রাতে পলাশ মোটরসাইকেলযোগে সুমাইয়ার দেওয়া ঠিকানায়—আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় গেলে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুমাইয়ার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে আটক করে। সেখানে মারধর করে তার কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ১২,৭০০ টাকা, একটি আইফোন, মোটরসাইকেলের চাবি এবং তার নামে ইস্যুকৃত এটিএম কার্ড রেখে দেওয়া হয়। এরপর রাত গভীরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পলাশ বাড়ি ফিরে কিছুটা সুস্থ হলে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিকেলে ইয়াছিন শেখ এবং রাতে সুমাইয়া জান্নাতকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবীর জানান, গ্রেপ্তারকৃত সুমাইয়া জান্নাত দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের মাধ্যমে প্রেমের অভিনয় করে সহজ-সরল মানুষদের ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করত। তার সহযোগী ইয়াছিন শেখের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।













