মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি, বাঘুটিয়া বাজার ও পারুলিয়া বাজার এলাকার হাজারো মানুষের বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হুমকির মুখে ফেলেছে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ—এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স ও তাঁর নিয়ন্ত্রিত ‘প্রিন্স বাহিনী’।
ইজারার বহু দূরে গিয়ে ড্রেজিং জানাযায়, মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্রিন্স কনস্ট্রাকশন গত বছর মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে রাহাতপুর বালুমহল ইজারা নেয়। শুরুতে নির্ধারিত এলাকায় বালু তুললেও কয়েক মাস ধরে তিনি ইজারাকৃত অঞ্চল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে জনবসতিপূর্ণ বাঘুটিয়া ও পারুলিয়া এলাকায় সেকশন কাটার উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ—এই অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিংয়ের ফলে দৌলতপুরের বিভিন্ন গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, ঝুঁকির মুখে পড়েছে শত শত পরিবার।
অবৈধ ড্রেজিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন, এরপর হামলা নিজেদের পৈত্রিক ভিটা রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করলে সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের সামনেই প্রিন্স বাহিনীর সদস্যরা প্রতিবাদকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময় ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক মো. সুলেমান হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদসহ আরও কয়েকজন ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপরও পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। আহত সাংবাদিকরা জানান—হামলাটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতেই এটি করা হয়েছে।
৭০–৮০ সদস্যের সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি—প্রিন্সের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৭০–৮০ জনের সশস্ত্র বাহিনী,যারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের মূল কাজ অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা চালানো গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা কোনো সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়া ড্রেজিং এলাকার আশপাশে প্রশাসন বা সাংবাদিকদের প্রবেশ ঠেকানো মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে। সরেজমিন তদন্তে দেখা যায়—ইজারাকৃত এলাকার বহু দূরে চরকাটারি পাড়া, বাঘুটিয়া ও পারুলিয়া এলাকায় একাধিক আধুনিক সেন্সর-যুক্ত ডিভাইস দিয়ে ড্রেজিং চলছে। উপস্থিত স্থানীয়রা জানান—এ এলাকাকে প্রিন্স বাহিনী কার্যত “নিষিদ্ধ অঞ্চল” হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি হামলার পর প্রিন্স বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি সাংবাদিকদের বলেন,“পুলিশে অভিযোগ করলে জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হবে।”এমনকি দৌলতপুর থানা এলাকায় সাংবাদিকদের দেখা গেলে তাদের জীবন নিয়ে ফিরতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার কারণে কোনো সাংবাদিক থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাননি।
প্রশাসনের অবস্থান অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে জানান—“ইজারার বাইরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজিংয়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার বলেন—গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে সাংবাদিকরা চাইলে আইনগত সহায়তায় জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”
উপসংহার-দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজিং এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় এ এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।













