মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, যমুনাসহ একাধিক নদ-নদীর মোহনা থেকে প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলায় সরাসরি মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করেই এক শ্রেণির প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী অবাধে ড্রেজিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর ও দৌলতপুর, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ, সিএন্ডবি ঘাট, ডিগ্রির চর, চরমহিদাপুর, দৌলতদিয়ার কলাবাগান এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ঘাট থেকে ডিগ্রির চর ও পাকশি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় সশস্ত্র পাহারার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানের খবর শোনা গেলেও তা কার্যকর নয়। কিছু ক্ষেত্রে নামমাত্র জরিমানা করে দায়সারা অভিযান চালানো হচ্ছে, যা অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এসব অভিযানে মূল আইন কার্যকর না হওয়ায় বালু দস্যুরা কার্যত আইনের তোয়াক্কা করছে না।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলায় একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর আওতায় একটি মামলা (মামলা নং-৩৯) দায়ের করা হয়, যেখানে রেজাউল করিমকে অভিযুক্ত করা হয়। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আরেকটি মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করা হয়, যেখানে শহিদ মিয়া, নাদিম হোসেন ও লিটন হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, একাধিকবার একই অপরাধে জড়িত থাকার পরও এসব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাত্র ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।
অথচ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বালু বা মাটি উত্তোলন করলে কিংবা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এ আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজের অভিযোগ,অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে, কৃষিজমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ছে এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের একটাই দাবি—বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোর শাস্তি কার্যকর করতে হবে,যাতে কেউ দ্বিতীয়বার এমন অপরাধ করার আগে চিন্তা করবে মনে করেন পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল।













