মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সশস্ত্র পাহারায় চলছে ড্রেজিং ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও যমুনা নদীতে দিন ও রাতের আঁধারে অব্যাহতভাবে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রভাবশালী বালু মাফিয়াদের সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায় পরিচালিত এই কর্মকাণ্ডে নদী তীরবর্তী এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ও ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একাধিক স্থানে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ড্রেজারের নিরাপত্তায় ২৫ থেকে ৩০ জন করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী মোতায়েন থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত ও জোরালো না হওয়ায় বালু উত্তোলনকারীরা বারবার একই অপরাধ করে যাচ্ছে। ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা নদীর একাধিক মোহনা এখন বালু খেকোদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রভাবশালী একটি চক্র দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট সংলগ্ন সিএন্ডবি খালের মুখ থেকে শুরু করে ইজারাকৃত এলাকার বাইরেও পদ্মা নদীর মাঝখানে অন্তত পাঁচটি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় শতাধিক বাল্কহেড।
অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বালু মাফিয়া আলম শেখের অনুসারীরা সক্রিয়ভাবে জড়িত। সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে বালু উত্তোলন পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরই তারা জোরালো অভিযান চালিয়ে দুইটি ড্রেজার জব্দ করেছেন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে রাজবাড়ী জেলা কোস্টগার্ডের কমান্ডার শাহিন আহম্মেদ জানান, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে কোস্টগার্ড নিয়মিত নৌপথে অভিযান পরিচালনা করছে।
এদিকে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলছেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীভাঙন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং জনজীবনে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।













