বৃহত্তর রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার পদ্মা- যমুনা ও কুমার নদীর বিভিন্ন মোহনায় এখন অবৈধ বালু খেকোদের নিরাপদ অভয়ারণ্য ও স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী একটি কুচক্রী মহল দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের গণ-মাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সরে-জমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট সংলগ্ন সিএন্ডবি খালের মুখ থেকে শুরু করে ইজারাকৃত এলাকার বাইরে পদ্মা নদীর মাঝখান পর্যন্ত বিভিন্ন মোহনায় অন্তত পাঁচটি অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। এসব ড্রেজার থেকে উত্তোলিত বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় শতাধিক বাল্কহেড।
স্থানীয়দের অভিযোগ,এই অবৈধ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বালু মাফিয়া আলম শেখের অনুসারীরা। আরও অভিযোগ রয়েছে,সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে বালু উত্তোলন চালানো হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ কিংবা সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা জানান,হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
একই চিত্র দেখা গেছে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার চরমহিদাপুর পদ্মার মোহনা ও দৌলতদিয়া উপজেলার কলাবাগান এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি,দিন ও রাতের অন্ধকারে অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে শতাধিক বাল্কহেডের সাহায্যে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
অভিযোগ রয়েছে,ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি খালের মুখ থেকে ডিক্রিরচর পদ্মা নদী এবং রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পয়েন্ট থেকে পাকশি পর্যন্ত এলাকায় বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সরাসরি মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু বালু মাফিয়ারা স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি বলেন,“অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অন্যদিকে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ও দৌলতদিয়া পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। আপনাদের মাধ্যমেই জানতে পারলাম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সকল অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, আমি একেবারেই নতুন এ বিষয়ে আমি অবগত নাই, এখন আপনার কাছে জানছি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থার গ্রহণ করব ও রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বহুবার অভিযান চালিয়েছি,কেউ যদি আইনকে অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকেন আর যেহেতু আমাদের জেলা প্রশাসক স্যার এ বিষয়ে অবগত আছেন। তবে কেউ যদি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও অভিযান চালানো হবে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হবে,নদীভাঙন বাড়বে ও পরিবেশ এবং জনবসতিতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা।













