সর্বশেষ

শীতে কাঁপছে রাজিবপুর মানুষের জীবন বিপন্ন

উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজিবপুরসহ শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে, ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে এবং শীতবস্ত্রের তীব্র সংকট দেখা।

আখাউড়ায় সাংবাদিক শাহীন আলমের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন


‎উত্তরের হিমেল হাওয়া ও কনকনে শীতে রাজিব পুরে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।এ ছাড়া গত কয়েকদিন রাজিবপুরে  তীব্র শীত অনুভূত হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জনজীবন।  চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নানা পেশাজীবীর মানুষ। তবে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

‎শীতের তীব্রতায় উত্তরের জনপদে জনজীবনে নেমে আসছে দুর্ভোগ। ঘন-কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে উপজেলার জনপদ। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে সড়কগুলোতে চলছে যানবাহন। কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছেন খেটে-খাওয়া মানুষ। নদীর তীরবর্তী অববাহিকায় বসবাস করা শিশু-বৃদ্ধদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। শীতে বিপর্যস্ত  নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন। হাড়  কাঁপানো কনকনে শীতে বের হয়েও অনেকের মিলছে না কাজ। ঘন কুয়াশা আর বাতাস শীতকে আরও প্রবল করেছে। বিশেষ করে,  দিনমজুর-নিম্ন আয়ের মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। দিনমজুর একদল লোককে জটলা ধরে আগুন পোহাতে বসে থাকতে।

‎এখানে তারা প্রায় প্রতিদিনই বসে থাকেন কাজের আশায়। কাজ মিলেও যায়। কিন্তু শীতের কারণে কতদিন ধরে সমস্যা হচ্ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বেলে শীত নিবারণের চেষ্টাও করছে অনেকে। শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়ার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকায় এসব মানুষের কষ্ট কেবল বাড়ছেই। বিশেষ করে, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে।


‎  শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় কুয়াশাও বাড়ছে। অনেক এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দুপুরেও দেখা মিলছে না সূর্যের আলো। প্রতিবারের মতো এবারও দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে এই অঞ্চলের মানুষজন বাইরে পর্যন্ত বের হতে পারছেন না, অচল হয়ে পড়েছে অধিকাংশ এলাকা। শীতের তীব্রতার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ, যেমন দিনমজুর যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কর্মসংস্থান প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যারা ছিন্নমূল মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি নেই, তাদের দুঃখকষ্টের যেন শেষ নেই! সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন জ্বালিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।

‎এই তীব্র শীতকে  উপেক্ষা করার জন্য আমরা রকমারি শীতবস্ত্র পরিধান করছি। কিন্তু দুঃখজনক ঘটনা আমরা যে পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছি, সেই পথে বসবাসরত মানুষগুলোর দিকে একটু খেয়াল করলে দেখতে পাই শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করার জন্য অনেক পূরনো জিনিস গায়ে জড়িয়ে দিনরাত কাটানোর প্রহর গুনছেন।

‎কেউ কেউ শুকনো খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আগুনের তাপ পোহাচ্ছেন আর অপেক্ষা করছে সূর্যের আলোর জন্য। তাদের জন্য বয়ে  আসবে একটু উষ্ণতা।



‎বদরপুরের  ৫০ বছর বয়সি বৃদ্ধা আমজাদ হোসেন বলেন, আমি দিন এনে দিন খাই এই শীতে কাম কাজ করলে হাত পা অবশ হয়ে পরে । কিন্তু পেটের দায়ে মানুষের কামলা দিয়ে কোন মতে এক মুঠো ডাল ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করি। এই কনকনে শীতে কামলা না দিলে খাবো কি ঘরে খাবার নাই। কোন রকম একটু বাড়ির ভিটা তাও আবার বন্দুক জমিতেসহ পরিবার নিয়ে থাকি। বউ ও ছেলে-ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনি মিলে ছয়-সাতজনের সংসার ।


‎  পান বিক্রিতা আল আমিন  বলেন, প্রতিদিন আমি ঘাড়ে করে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খিলি পান বেছি। এই ঠান্ডার কারণে বেলা ১১টার আগে পানের দোকান নিয়ে বের হতে পারি না। এই ঠান্ডার মধ্যে মানুষ রাস্তা ঘাটে বের না হওয়ায় খিলি পান বেচতে পাড়ি না।  রাজিবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পান বিক্রি করে। গরিবের শীত-বৃষ্টি-ঝড় তুফান সবকিছুতেই বিপদ। ঘরে বউ-বাচ্চা আছে, বিক্রি না করলে খাবো কি ।

‎রাজিবপুর উপজেলার টাঙ্গালিয়াপাড়া, বদরপুর  এলাকার বিধবা মহিলা নুরজাহান, আনোয়ারা,  কইতুরি বেগম সহ অনেক বিধবা মহিলারা বলেন, এই শীতে কষ্ট করে ছেড়া ফাড়া পুরাতন জিনিস গায়ে দিয়ে শুয়ে থাকি শীতে রাতে ঘুম ধরে না।এখন পর্যন্ত কোনো গরম কাপড় বা অন্য কোনো ধরনের সরকারি কম্বল বা শীতের কোন জিনিস পাইনি। এই এলাকায় অনেক গরিব মানুষ আছে । আমার সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের যেন শীতের কম্বল বা শীত বস্ত্র দেয় ।

‎পশ্চিম বদরপুরের বিধবা হালে পাগলি বলেন, ভোট আসলেই সবাই ভোট নেওয়ার জন্য অনেক কিছু দেওয়ার কথা কয়। ভোটের পরে তাদের আর এলাকায় দেখা যায় না। তাহলে আমরা যাবো কার কাছে।


‎রাজিবপুরে আজকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দিনে দিনে আরও কমতে পারে। আকাশে ঘন মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে আসতে পারে। । অন্যদিকে শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন পার করছে উপজেলার নিম্নআয়ের মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে।

রৌমারী সীমান্ত হতে এক বাংলাদেশী যুবককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় রক্ষী বাহিনী বিএসএফ

নাটোর ডিবি তদন্তেও দমে নেই সোহরাব বাহিনী:পঙ্গু শ্রমিকের জমি দখলে ভূমিদস্যুরা

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ এবং তিন প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিক মো....

Read more

সর্বশেষ

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT