মানিকগঞ্জের হরিরামপুর যমুনা নদীর চরাঞ্চলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের অপরাধে আমতলা বালিয়াকান্দি রেজাউল করিম ও হাসান মোল্লাকে অর্থদণ্ড এবং ডেজিংয়ের এর মালামাল,ড্রেজার জব্দ করা হয়।
জানাযায়, রবিবার ২৮ ডিসেম্বর ২৫ ইং মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অবৈধভাবে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে আমতলা বালিয়াকান্দি রেজাউল করিম ও হাসান মোল্লাকে নগদ ২,০০০০০/= দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড জরিমানা আদায় করা সহ অবৈধভাবে ডেজিংয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এরকম দায়সারা অভিযান দিয়ে কোন লাভ নাই, এক লাখ দুই লাখ টাকা জরিমানা করে প্রশাসন চলে যায়। কিন্তু চলে যাওয়ার সাথে সাথে ঐদিন আবারো অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে দেন, তাহলে এ অভিযানে লাভ কি হলো জনমনে এটাই একমাত্র জিজ্ঞাসা? প্রশাসন বলছে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি, কিন্তু তারা অভিযান দেওয়ার আগেই ছটকে পড়ে, কারণ প্রশাসনের সকল মহলে টাকা দিয়ে তাদের লোক বসিয়ে রেখেছে এরকম অভিযোগ এলাকাবাসীর।
হরিরামপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,যমুনা নদীর চরাঞ্চলে কাটার মেশিন বসিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগীতায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে রেজাউল করিম ও হাসান মোল্লা সহ তার সশস্ত্র বাহিনী। বেপরোয়াভাবে নিয়মনীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে প্রকাশ্যে নদীর বিভিন্ন স্থানে ৮টি কাটার মেশিন দিয়ে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু কেটে বিক্রি করছে।
স্থানীয় সূত্রে আরোও জানা যায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের ওই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মানিকগঞ্জ জেলা হরিরামপুর,শিবালয় ও দৌলতপুর এ সমস্ত এলাকায় সরকারিভাবে কোনো বালু মহাল ইজারা না দেয়া সত্ত্বেও প্রিন্স গ্রুপ সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত যমুনা নদী থেকে ১২ ইঞ্চি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থায়ীয় এলাকাবাসী।
এতে করে হরিরামপুর উপজেলার অসংখ্য বসতবাড়ি ও আবাদি জমি ইতিমধ্যে ভাঙনের মুখে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে যমুনা নদী থেকে বালিয়াকান্দি, আমতলা বাসিন্দা রেজাউল করিম ও হাসান মোল্লার সশস্ত্র নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে দেদারসে বিক্রি করছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও থামছে না, এ বালু উত্তোলন।
বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয় এলাকাবাসী বলছে,এতে উপজেলার চরাঞ্চলের নদী তীরবর্তী বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের বৈদ্যুতিক সঞ্চালন টাওয়ার, চরের, স্কুল মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিষ্ট হলেও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
দেখা যায়,হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের অসংখ্য বসতবাড়ি ও আবাদি জমি ভাঙনের মুখে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তারা আরো জানান দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে যমুনা নদী থেকে প্রিন্স গ্রুপ নামে একটি চক্র এই গ্রুপের হয়ে কাজ করে হরিরামপুর, ও দৌলতপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণে অবৈধভাবে উত্তোলন করে যাচ্ছে, রেজাউল করিম ও হাসান মোল্লা সহ তাদের সশস্ত্র বাহিনী। রাত হলেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও থামছে না বালু উত্তোলন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও উপজেলা সচেতন একাধিক মহল বলছেন,এই সমস্ত কর্মকাণ্ডে নামে মাত্র দায়সারা অভিযান পরিচালনা করে সামান্য জরিমান করে অপরাধীদের ছেড়ে দেয়, এতে করে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা। বলু মহল আইনের সর্বোচ্চ ধারা ও সর্বোচ্চ জেল-জরিমানা এবং কঠোর থেকে কঠোরতম আইন প্রয়োগ না করলে এই বালু খেকোদের দমানো সম্ভব হবে না বলে অভিযোগ তাদের। তারা আরোও অভিযোগ করে বলেন যে, মাত্র ১ ঘণ্টা বালু উত্তোলন করলে লক্ষ লক্ষ টাকা বিক্রি করেন, তাই ২ লক্ষ ১ লক্ষ টাকা তাদের কাছে কোন ব্যাপার না। মাসের পর মাস যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তারা তো স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কোটি কোটি টাকার অবৈধ মালিক হয়ে যায়। তারা তো প্রশাসনের সমস্ত লোককে টাকার বিনিময় কিনে নেন, এরকম প্রায় সারা অভিযান বহুবার করেছেন উপজেলা প্রশাসন। তাই আমাদের উপজেলা গ্রাম ও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগ করতে হবে অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে। আমরা প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে অভিযান পরিচালনা করার দাবি জানাচ্ছি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের অভিমতঃ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগ করে এই সমস্ত অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে বারবার জেল জরিমানা করা সত্ত্বেও যারা আবারো এই সমস্ত কাজে লিপ্ত থাকবে তাদেরকে আইনের সংশোধন করে রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস করার প্রয়োজন মনে করছি।
এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদিয়া আক্তার বলেন, আমরা গত সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এরপর থেকে বন্ধ ছিল। আমরা আবারও বিভিন্ন মাধ্যমে পত্রপত্রিকায় খবর প্রচারিত হওয়ায় আপনাদের বিভিন্ন অভিযোগের ক্ষেত্রে আজ আমরা এ অভিযান পরিচালনা করছি। রেজাউল করিম ও হাসান মোল্লা নামের দুইজন ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হওয়াও তাদের কে দুইজনে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা অর্থাৎ নগদ অর্থদন্ধে দণ্ডিত করা হয়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। তবে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত রাখব বলে জানান তিনি।













