হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ঢাকার দোহার উপজেলা। আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৬) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো জনপদ কুয়াশার কবলে থাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। বেলা গড়িয়ে দুপুর হলেও কুয়াশা না কাটায় প্রকৃতিতে যেন এক কৃত্রিম সন্ধ্যার আবহ বিরাজ করছিল। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা।
সকাল থেকেই দোহার-নবাবগঞ্জ ও দোহার-ঢাকা মহাসড়কে তীব্র কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কয়েক ফুটের মধ্যে নেমে আসে। ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে রিকশা, সিএনজি, বাসসহ সব ধরনের যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত চলাচল করতে দেখা গেছে।
পদ্মা নদী সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় মৈনট ঘাট ও নারিশা এলাকায় কুয়াশার দাপট ছিল সবচেয়ে বেশি। এর ফলে পদ্মা নদীতে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে অনেক ট্রলার ও ছোট নৌকাকে মাঝনদীতে বা ঘাটে নোঙর করে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
শীতের তীব্রতা গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ কয়েক গুণ বেশি অনুভূত হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষ।
একই উপজেলার চর মোহাম্মদপুর এলাকার ৮৩ বছর বয়সি জসিম ফকির, যিনি মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাটে ঘাড়া চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, আক্ষেপ করে বলেন, শীতের তীব্রতা আজ অনেক বেশি। মানুষজন ঘর থেকে কম বের হওয়ায় রোজগারও অনেক কমে গেছে। এ ঘাটেরই আচার ব্যবসায়ী জাকির মোল্লা জানান, “সকাল থেকে কুয়াশায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে আছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় রাস্তায় মানুষ নেই, ফলে আমাদের বেচাকেনাও কমে গেছে।













