শিবালয় ও দৌলতপুরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা, আতঙ্কে হাজারো মানুষ
মানিকগঞ্জ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ হাজার কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একাধিক টাওয়ার চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীর তীর ও টাওয়ারগুলোর ভিত্তির মাটি ব্যাপকভাবে সরে যাওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
রাতের আঁধারে বালু লুট স্থানীয় সূত্র ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত যমুনা নদীতে বাল্বহেড ড্রেজার ও কাটার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। উত্তোলন কার্যক্রম শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে দ্রুত ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়।
দুর্বল হচ্ছে নদীতীর, হুমকিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
নিয়ম বহির্ভূত ও লাগাতার বালু উত্তোলনের ফলে যমুনার তীরবর্তী এলাকাগুলো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দৌলতপুর ও শিবালয়ের চড়াঞ্চল জাফরগঞ্জ,আলোকদিয়ার চড়, চড়কাটারি, বাঘুটিয়ার চড়,পারুলিয়া বাজার,রাহাতপুর, তেওতা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফসলি জমি ও জনবসতি ইতোমধ্যেই ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো—নদীর বুকে সারি সারি বিদ্যুৎ টাওয়ারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, একটি বা দুটি টাওয়ার নদীগর্ভে ধ্বসে পড়লে শুধু মানিকগঞ্জ নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
প্রশাসনের অভিযান,তবু থামছে না দৌরাত্ম্য,স্থানীয় প্রশাসন সময়ে সময়ে অভিযান পরিচালনা করে কিছু সরঞ্জাম জব্দ ও জড়িতদের আটক করলেও অবৈধ বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ,প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ক্ষমতাধর মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে।
জেলা প্রশাসকের কঠোর অবস্থান,সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাবা নাজমুল আরা সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার নির্দেশনায় নিয়মিত ছোট পরিসরে অভিযান পরিচালিত হলেও বালু মাফিয়াদের কার্যক্রম পুরোপুরি থামানো সম্ভব হচ্ছে না।
কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি,এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ, জনপদ এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর, সমন্বিত ও স্থায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় যমুনা তীরবর্তী এই অঞ্চলে যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—যার প্রভাব পড়বে পুরো দেশের ওপর।













