মানিকগঞ্জের শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা যমুনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেকশন কাটার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দৈনিক আমাদের খবরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করলে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহীয়ান নুরেনের নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসানুল আলম মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,রাহাতপুর বালুমহলের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের লোকজনসহ আরও কয়েকজন অবৈধ বালুবাহী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে যমুনার বিভিন্ন চ্যানেলে বালু তুলছিলেন। রাহাতপুর, আলোকদিয়া চর, চরকাটারি, পারুলিয়া বাজার, বাঘুটিয়া বাজার ছাড়াও শিবালয়ের পাকুড়িয়া, কাজিরহাট ও আরিচা ঘাট– সর্বত্রই ছিল তাদের অবাধ তৎপরতা।
অবৈধ উত্তোলনে নদীর ধারা পরিবর্তন, চরের ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। সাংবাদিকরা মানববন্ধনের সংবাদ সংগ্রহে গেলে গত ১৯ নভেম্বর বাঘুটিয়া এলাকায় ইজারাদারপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর জাতীয় পত্রিকাগুলো অব্যাহতভাবে জনস্বার্থে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরপরই মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাসরিন আরা সুলতানার নির্দেশে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। তারই অংশ হিসেবে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের চলমান অভিযানে সাম্প্রতিক জরিমানার ঘটনা ঘটে।
যদিও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দাবি করেন— এই অভিযান ‘লোক দেখানো’,এবং বালুমাফিয়াদের পুনরাবৃত্ত অপরাধের তুলনায় জরিমানার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। তবে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন বলছে,আইন মেনেই অভিযান পরিচালিত হয়েছে ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবেন বলে জানান তিনি।













