মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন একটি অভিযান পরিচালনা করেছে। দৌলতপুর উপজেলার বাঁচা মারা ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন যমুনা নদীর তীর থেকে ড্রেজিং সিস্টেম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন। অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে দুইজনকে আটক করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ৪, ৫ ও ১৫ ধারায় প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে মোট দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন শামিম হোসেন ও রাকিব গাজী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও নাহিয়ান নুরেন গণমাধ্যমকে জানান,
“যমুনা নদী থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
তবে প্রশাসনের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনা নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী চক্র অবৈধ ড্রেজিং সিস্টেম ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং নদীপাড়ের বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি শক্তিশালী অবৈধ ড্রেজার ঘণ্টায় ন্যূনতম ২০টি বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড করতে সক্ষম। সে হিসাবে প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় এক কোটি টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও বাণিজ্য করা হচ্ছে। অথচ অভিযানের নামে মাত্র দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, যা অপরাধের তুলনায় নগণ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমরা ঘরবাড়ি হারানোর পথে, অথচ অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা বারবার একই অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান লোক দেখানো ছাড়া আর কিছু নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে শুধু জরিমানা নয়, ড্রেজার জব্দ, ব্যবসায়ীদের স্থায়ীভাবে আইনের আওতায় আনা এবং প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তা না হলে যমুনা নদী ও এর আশপাশের জনপদ অচিরেই ভয়াবহ পরিবেশ ও মানবিক সংকটের মুখে পড়বে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান আদৌ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে, নাকি সবকিছুই থেকে যাবে লোক দেখানো অভিযান।













