পদ্মা যমুনার মোহনায় বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশাসনের যোগসাজসে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থানীয়দের অভিযোগ,হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সশস্ত্র পাহারায় চলছে ড্রেজিং ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও যমুনা নদীতে দিন ও রাতের আঁধারে কিছুটা প্রশাসনের ছাত্রছায় হলেও এই সমস্ত অবৈধ কার্যকলাপ এখন ওপেন সিন্ডিকেট পরিণত হয়েছে। চরাঞ্চল ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রভাবশালী বালু মাফিয়াদের সশস্ত্র বাহিনীর পাহারায় পরিচালিত এই কর্মকাণ্ডে নদী তীরবর্তী এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রশাসন যদি না জানে তবে কিভাবে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সশস্ত্র পাহারায় রাতের আধারে নিয়মিত ভাবে এই সমস্ত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। এলাকার চিহ্নিত মাফিয়া চক্র তারা আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু উত্তোলন করছে। প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকেন এই সমস্ত অপরাধীরা।
গোপনভাবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ও ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে একাধিক স্থানে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ড্রেজারের নিরাপত্তায় ২৫ থেকে ৩০ জন করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী মোতায়েন থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত ও জোরালো না হওয়ায় বালু উত্তোলনকারীরা বারবার একই অপরাধ করে যাচ্ছে। ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা নদীর একাধিক মোহনা এখন বালু খেকোদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রভাবশালী একটি চক্র মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দিনের পর দিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট সংলগ্ন সিএন্ডবি খালের মুখ থেকে শুরু করে ইজারাকৃত এলাকার বাইরেও পদ্মা নদীর মাঝখানে অন্তত পাঁচটি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় শতাধিক বাল্কহেড।
অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বালু মাফিয়া আলম শেখের অনুসারীরা সক্রিয়ভাবে জড়িত। সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে বালু উত্তোলন পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়রা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। কারণ এই সমস্ত বালু সিন্ডিকেটের তিন চার জেলার নদীর চরাঞ্চলের শক্ত সশস্ত্র অবৈধ বালু মাফিয়া চক্র সক্রিয়ভাবে সরাসরি জড়িত। এই সমস্ত জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন জানেন আমরা বারবার প্রশাসনের উচ্চ মহল পর্যন্ত জানিয়েছি,তারপরেও কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রশাসন না মাত্র দায় সারা অভিযান পরিচালনা করেন। স্থানীয়রা বারবার অভিযোগ করেন প্রশাসনের সমস্ত মহলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করেই বালূ মাফিয়ারা এই সমস্ত কর্মকাণ্ড করেই যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ তিন জেলার জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমকে জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনভাবেই অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের কোন প্রকার সুযোগ নাই। আমরা যেখানেই আপনাদের মাধ্যমে খবর পাচ্ছি সেখানেই অভিযান পরিচালনা করতে নির্দেশ দিচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সংবাদ প্রকাশের পরই তারা জোরালো অভিযান চালিয়ে দুইটি ড্রেজার জব্দ করেছেন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকা খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে জেলাগুলোর আওতাধীন কোস্টগার্ড প্রশাসনাও অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে সজাক দৃষ্টি রাখছে, এবং কোস্টগার্ডের একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে আমাদের গণমাধ্যমকে রাজবাড়ী জেলা কোস্টগার্ডের কমান্ডার শাহিন আহম্মেদ জানান, নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে কোস্টগার্ড নিয়মিত নৌপথে অভিযান পরিচালনা করছে।
এদিকে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রশাসনের উচ্চ মহল থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আর এভাবে চলতে থাকলে সমাজ ও পরিবেশে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কায় রয়েছে স্থানীয় ও পরিবেশবাদীরা। এই সমস্ত অবৈধ কর্মকাণ্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ভাবে উচ্চ মহল থেকে বন্ধ করার দাবি জানান তারা। তারা আরোও দাবি করেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে অচিরেই নদীভাঙন,পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।













