রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার পদ্মা ও যমুনা নদীর বিভিন্ন মোহনা থেকে দিন-রাত নির্বিঘ্নে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। আন্তঃজেলা বালু মাফিয়া চক্র সশস্ত্র পাহারায় এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকেও রয়েছে অভিযোগ। প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ও দৌলতদিয়া উপজেলার চরমহিদাপুর ও কলাবাগান এলাকা ও ফরিদপুর সদর উপজেলার সিএন্ডবি ঘাট থেকে ডিগ্রিরচর হয়ে পাকসি পর্যন্ত বিস্তৃত নদী অঞ্চলটি মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক বালু উত্তোলনের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষিত। তবে সরেজমিন তথ্যে’ দেখাযায়,নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এসব এলাকা থেকে অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, ফরিদপুর-রাজবাড়ী অঞ্চলের একটি সংক্রিয় সঙ্ঘবদ্ধ বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত বিগত আওয়ামী দোসর আলম শেখের প্রায় ৩০ জন অনুসারী সশস্ত্র পাহারায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কয়েকটি অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০টিরও বেশি বাল্কহেডে বালু বোঝাই করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান,“এখানে কার্যত হরিলুট চলছে। বালু উত্তোলনের এলাকাগুলোতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ গেলে জীবন নিয়ে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েন এবং বালু মাফিয়াদের দখলে পুরো এলাকা।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের ভাষ্য,“যেখানে সাংবাদিকদেরই যাওয়া নিষেধ, সেখানে সাধারণ মানুষের তো কোনো নিরাপত্তাই নেই। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এলাকা থেকে কেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না—এমন প্রশ্নে ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, নিষিদ্ধ এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)-দের নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না কেন? প্রশাসনের তদারকি ও কার্যকর অভিযানের অভাবে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জননিরাপত্তাও চরম হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ বালু মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও অবৈধ বাবরের বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন, যাতে নদী, পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হয়।













