সর্বশেষ

মিরাজ হত্যা মামলায় কাউসার আলমের মামলা বাণিজ্য’দুস্কৃতিদের আড়ালের চেষ্টা: অভিযোগ নিহতের পরিবারের

জেলা প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরের আলোচিত মিরাজ হোসেন হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রথম স্থানীয় ঠিকাদার বাদী কাওছার আলমের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য,প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা ও ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিহত মিরাজ হোসেনের ছেলে তারেকুল ইসলাম। এঘটনায় নিহতের ছেলে নিজে বাদী হয়ে,পরবর্তীতে মানিকগঞ্জ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর শিবা-মামলা নং-৯৬/২০২৬/ ইং মামলাটি দায়ের করেন।

তারেকুল গণমাধ্যমকে জানান,(গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ইং)শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আলোকদিয়া চরে ড্রেজারে অবস্থানকালে একদল অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্ত বাবা মিরাজ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে। তার দাবি,ঘটনার সময় কাওছার আলমের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমসহ আরোও দুই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে কাওছার আলমের দাবি হামলার সময় তার লোক জাহাঙ্গীর গুলিবিদ্ধ হয়। কাওছারা আলমের এ দাবির কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কিন্তু তারেকুল অভিযোগ,পুলিশের তদন্তে জাহাঙ্গীর আলম নামে কোনো গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি।পরবর্তীতে জানা যায়,ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওই তিনজনের কারোও শরীরে সামান্য আঁচরের চিহ্নও ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন,একই স্থানে চারজন ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও খুনিদের আমার বাবা মিরাজ হোসেনকে টার্গেট করে এসেছিলেন ও তাকেই নৃশংসভাবে হত্যা করে নির্বিঘ্নে স্থান ত্যাগ করলো,অথচ বাকিরা অক্ষত রয়ে গেল কীভাবে? তারেকুক বলেন,এটি এমন পরিকল্পনা ছিল যেখানে কাওছার আলম কারোও ইন্ধনে তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জাহাঙ্গীরসহ অন্যদের দিয়ে এ হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করে। এতে করে কাওসার আলম প্রতিপক্ষকে আসামি করে ব্যবসায়িক ফায়দা ও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাবনায় ডিবি পুলিশের সফল অভিযান: আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ৪

তিনি দাবি করেন,মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়,ঘটনার সময় উপস্থিত থাকার দাবি করা জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য দুই ব্যক্তিকে সাক্ষী করা হয়নি। তার ভাষ্যমতে, যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি, করছে তাদেরই যদি সাক্ষী না করা হয়, তাহলে কি এটি প্রমাণ করে না যে ঘটনার সঙ্গে কাওছার আলম নিজেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারেন।

তারেকুল প্রশ্ন রেখে বলেন,“আমার বাবার হত্যাকাণ্ডে কাওছার আলম বাদী হওয়ার কে? তিনি কোন স্বার্থে,কার ইন্ধনে প্রকৃত প্রত্যক্ষদর্শীদের আড়াল রেখে তার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে। আমি নিহতের ছেলে হিসেবে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দাখিল করেছিলাম,যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হয়। কিন্তু আমার এজাহার গ্রহণ না করে কাওছার আলমের এজাহার গ্রহণ করা হয়। অথচ সেই এজাহার দায়েরের সময় আমাদের পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি।

তারেকুলের দাবি,এজাহার দায়েরের সময় শিবালয় থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মানব বাবু প্রকাশ্যে তার চাচা কাবিরুলের হাতে ছয়জনের নাম লেখা একটি কাগজ দিয়ে বলেন,এদের নাম গুলো দিতে হবে। এ নিয়ে তার চাচার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায়ও হয়।
তবে উল্লেখ্য,কাওছার আলম অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তি ও তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তারেকুলের এসব অভিযোগে মিরাজ হত্যা মামলার তদন্ত,মামলা বাণিজ্য,মামলার বাদী ও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আশুলিয়ায় ‘খিদা লাগলে খেয়ে যান’ কর্মসূচি, খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২১ জুলাই ২০২৬
Trulli

মিরাজ হত্যা মামলায় কাউসার আলমের মামলা বাণিজ্য’দুস্কৃতিদের আড়ালের চেষ্টা: অভিযোগ নিহতের পরিবারের