সর্বশেষ

জলবায়ু অভিঘাতে অর্থনীতি, রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকতে চায় বেসরকারি খাত

অনলাইন ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন এখন কেবল পরিবেশগত প্রভাবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনীতিতেও এর গভীর অভিঘাত তৈরি হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার কারণে কৃষি ও শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা। তাই জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজন সহনশীল অর্থনীতি। দেশের অর্থনীতির এমন রূপান্তরে এরই মধ্যে রিসাইক্লিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে দেশের বেসরকারি খাত। জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়তে উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের ধরনে পরিবর্তন আনার তাগিদ দিয়েছেন নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, অর্থনীতিবিদ ও শিল্প উদ্যোক্তারা। এজন্য তারা সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং সহজ শর্তে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিতে জোর দিয়েছেন। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে গতকাল বণিক বার্তার আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক গ্রিন ডায়ালগে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতের কোনো বিষয় নয়; এর ক্ষতিকর প্রভাব এরই মধ্যে দৃশ্যমান। অতিরিক্ত গরমের কারণে কারখানায় শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। আবার বৃষ্টি অনিয়মিত হওয়ায় কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। লবণাক্ততা আমাদের কৃষিজমি এবং পানীয়জলের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। বন্যায় উৎপাদন অনেক কমতে পারে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। আবার বন্যায় শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে তা রফতানি ও কর্মসংস্থানে বড় আঘাত হানবে।’

অর্থনীতির বিরাজমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এডিবিসহ অন্যান্য সংস্থা আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা আগের চেয়ে অনেক কম। একদিকে যেমন প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, তেমনি মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, বিনিয়োগে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আমাদের জ্বালানি খাতও বড় চাপের মুখে রয়েছে।’

এমন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতির সহনশীলতা আরো বাড়াতে হবে বলে তার বক্তব্যে জোর দেন আবদুল আউয়াল মিন্টু।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে দেশের কৃষিকে রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী আরো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি—উভয়ই ভবিষ্যতে আমাদের কৃষিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সামনের দিনে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

পলিসি ডায়ালগে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক) ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) চিংফেং ঝাং। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মুস্তাফা হায়দার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি ও অনন্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, পরিবেশ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডকল) সম্মাননা দেয়া হয়।

হ্যামস গার্মেন্টস আন্তর্জাতিক লিড প্লাটিনাম সনদে বিশ্বসেরা স্কোর অর্জন করেছে। অন্যদিকে সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিপরীতে কার্বন রাজস্ব হিসেবে ২৩ মিলিয়ন ডলার দেশে আনার কৃতিত্ব দেখিয়েছে ইডকল। প্রধান অতিথি পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম দায়ী হলেও এর বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশ অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে, যার প্রভাব আমাদের দেশেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এ পরির্বতনের ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি থেকে শুরু করে জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়—এ রকম নানা সমস্যা আমরা মোকাবেলা করছি। শুধু তা-ই নয়, প্রাত্যহিক জীবনেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রভাব আমরা লক্ষ্য করছি।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থনীতিরও বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস ঘটছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির দিকে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, আজকের এ আলোচনা সামনের দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় সহায়ক হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।’

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) চিংফেং ঝাং বলেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৩৩ লাখে। সেজন্য আজকের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো অবশ্যই সহনশীলতার কথা মাথায় রেখে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এডিবির ২৫ কোটি ডলারের “‍উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহনশীলতা প্রকল্প” ২২টি শহরে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাশয় পুনরুজ্জীবন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। অভিযোজন এবং পরিবেশগত সেবা কীভাবে একে অপরকে শক্তিশালী করতে পারে, এ প্রকল্প তার বাস্তব উদাহরণ।’

এডিবি বাংলাদেশের সঙ্গে সবসময় কাজ করতে প্রস্তুত জানিয়ে চিংফেং ঝাং আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন কপ৩১ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী জলবায়ু অর্থায়নের দাবির পেছনে স্পষ্ট বিনিয়োগ অগ্রাধিকার এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলের রূপরেখা থাকা উচিত। আমাদের চূড়ান্ত সাফল্য হবে বিষমুক্ত বাতাস ও পরিষ্কার পানি, উর্বর মাটি, নিরাপদ সমাজ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেই ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এবং তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে এডিবি সব সময় প্রস্তুত।’

বণিক বার্তার গ্রিন ডায়ালগে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশে সার্কুলার ইকোনমি, রিসাইক্লিং, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারে আমরা বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি। টেকসই উন্নয়ন আমাদের দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেই কেবল শিল্প খাতের প্রকৃত অগ্রগতি সম্ভব। তাই নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জলবায়ু ও মানুষের জীবনযাত্রাকে বিবেচনায় নেয়া হয়।’

চার হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটের প্রস্তুতি ইসির: প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি

টিকে গ্রুপের গ্রুপ ডিরেক্টর মোহাম্মাদ মুস্তাফা হায়দার তার আলোচনায় বলেন, ‘মার্চেন্ট পাওয়ারে রিয়েল টাইম মিটারিং চালু হলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সাড়ে ৪ ঘণ্টায়ই কেবল ক্রেতাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে পরবর্তী সময়ে গ্রিড বা পিডিবির সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে না। ফলে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ চাহিদা সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে। নীতিগত সীমাবদ্ধতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারকে আটকে দেবে।’

জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব রাখে, উৎপাদনশীলতা কমায় এবং কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে উল্লেখ করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘এত দিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে হিসাব করা হয়েছে, তাতে পরিবেশগত সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত অর্থনৈতিক ব্যয় পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। এসব ব্যয় প্রবৃদ্ধির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে দেশের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি বা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ আরো কম হতে পারে।’

পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে উল্লেখ করে হ্যামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৩০০টি কারখানা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। লিড সনদপ্রাপ্ত প্লাটিনাম কারখানার সংখ্যা ও সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। হ্যামস গ্রুপের চারটি কারখানার মধ্যে তিনটি লিড সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে হ্যামস গার্মেন্টসের নিট কম্পোজিট কারখানা ১১০-এর মধ্যে ১০৮ স্কোর অর্জন করেছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।’

সবুজ কারখানা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু গাছপালা দিয়ে কারখানা সাজানোই পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য নয়। এর মূল লক্ষ্য জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস করা। পাশাপাশি পানি পুনর্ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে কার্বন নিঃসরণও বাড়ে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ে তোলার কাজ করছেন।’

দেশের সেচ ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের তার প্যানেল আলোচনায় বলেন, ‘দেশের সেচ ব্যবস্থায় ডিজেলের পরিবর্তে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিকেএসএফ। এতে উদ্যোক্তারা বহনযোগ্য সৌর প্যানেল ব্যবহার করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন। সেচ মৌসুম শেষে একই প্যানেল দিয়ে চাতাল বা কৃষকের গুদামে ধান শুকানোও সম্ভব হবে। এতে অসময়ের বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো যাবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু ক্ষয়ক্ষতির বিষয় হিসেবে না দেখে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে মো. ফজলুল কাদের আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন কঠোর বাস্তবতা। দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা ও অতিবন্যা এবং বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও মরুময়তা—এ তিন ধরনের প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও জীবিকায় নতুন চাহিদা তৈরি করছে। এসব চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাজার ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।’

আসন্ন কপ৩১ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসি ও অনন্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, ‘কপ৩১-এর মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের কার্যকর ও শক্তিশালী দরকষাকষি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধি প্রয়োজন, যাতে ধনী ও উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের অংশ আদায় করা সম্ভব হয়।’

তিনি বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো প্রতি বছর প্রায় ৮-৯ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ২০৫০ সালের মধ্যে মোট ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশ হয়তো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, অথচ বৈশ্বিক দূষণ বা কার্বন নিঃসরণে আমাদের অবদান অত্যন্ত নগণ্য। তাই আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে আমাদের শক্ত অবস্থান নিতে হবে।’

সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে জানিয়ে প্যানেল আলোচক ইডকলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের আলোয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় বেড়েছে। সন্ধ্যার পরও দোকান খোলা রাখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মঘণ্টা বেড়েছে। কর্মসূচিটি বিশ্বে বৃহত্তম অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’

এস. এম. মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস) নামে নতুন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করছে ইডকল। এ কর্মসূচির আওতায় বাড়ির মালিক মোট ব্যয়ের ২০ শতাংশ, ডিমান্ড অ্যাগ্রিগেটর ২০ শতাংশ এবং ইডকল সহজ শর্তে পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে বাকি ৬০ শতাংশ অর্থ দেবে।’

বণিক বার্তার গ্রিন ডায়ালগে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘আমরা অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানারকম কথা বলি ও শুনি। তবে সবকিছুর মূলে দরকার দৃঢ়তা ও জবাবদিহিতা। আমার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-৩-এ কিছুদিন ধরে নদীভাঙনে হাজার হাজার মানুষ বিপন্ন হতে চলেছে। আমরা নদীমাতৃক বাংলাদেশ, কিন্তু এ নদীকে বাঁচানোর কোনো ব্যবস্থাই বিগত সরকার নেয়নি। আমরা যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারতাম, তাহলে হয়তো এ পরিস্থিতি দেখতে হতো না।’

সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত নারী আসন) সুলতানা জেসমিন জুঁই বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের সাফল্য মূল্যায়নে শুধু বৃক্ষরোপণের সংখ্যা বিবেচনা করলে চলবে না; গাছের টিকে থাকা, পরিচর্যা ও বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ট্রি মনিটরিং অ্যাপের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ ও গাছের বৃদ্ধির তথ্য সংরক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজনে এরই মধ্যে কতটা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা নির্ধারণে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাও গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ব্যাংক প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন করেছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘এর বাইরেও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমাদের মোট অর্থায়নের তুলনায় টেকসই অর্থায়নের এ পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দেশের ৬২টি ব্যাংক যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে কমবেশি টেকসই অর্থায়নে এগিয়ে আসে এবং দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তাহলেই আমরা সফল হতে পারব।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিমুখী পরীক্ষার মুখে বিএনপি: নিরপেক্ষতা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাই প্রধান লক্ষ্য

নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি মাসে ৩৩-৩৪ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে। এ ব্যয় কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ল্যাবে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০০ বর্গফুটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে বছরে প্রায় ২৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় পড়বে সাড়ে ৫ টাকা, যেখানে প্রচলিত বিদ্যুতের জন্য দিতে হচ্ছে প্রায় ১০ টাকা। ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।’

সাবেক অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘টেকসই পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন বাড়াতে ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় ও সহজ শর্তের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ফাইন্যান্সের সুবিধা অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিতে পারছে না। তাই এ প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে দক্ষ কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্বে রাখা জরুরি, যাতে নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং পরিবেশবান্ধব তহবিলের অর্থপ্রবাহ বাড়ে। অর্থায়ন পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হলে এবং সুদের হার কমলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে আরো বেশি আগ্রহী হবে।’

কৃষকদের সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পাশাপাশি এ ব্যবস্থার ব্যাটারির মান ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘বাজারে নকল ও ভেজাল লিথিয়াম ব্যাটারির প্রবেশ ঠেকানো জরুরি। পাশাপাশি ধুলাবালির থেকে সৌর প্যানেল নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন, যাতে এর কার্যকারিতা কমে না যায়। এরই মধ্যে স্থাপিত প্যানেলগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা ও নির্দেশনা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আশা করি, আজকের আলোচনা থেকে এসব বিষয়ে কার্যকর সুপারিশ আসবে।’

গ্রিন ডায়ালগে অংশ নিতে গতকাল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে উপস্থিত হয়েছিলেন নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিবর্গ, সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদূত, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, গবেষক, ব্যাংক চেয়ারম্যান, নির্বাহী, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশ কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনরা। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নান, ঢাকায় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি গৌরব কুমার আগারওয়াল, মালদ্বীপ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার আলী শাহ।

অনুষ্ঠানে ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, স্রেডার সাবেক চেয়ারম্যান সিকদার আনোয়ার, সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেসের নির্বাহী পরিচালক ড. সামিনা ইসলাম, এ কাশেম অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের ম্যানেজিং পার্টনার আখতার সানজিদা কাশেম, জেবিসিসিআই পরিচালক কবির আহমেদ, ব্যারিস্টার জিসান মহসিন ও ব্যারিস্টার মনিরুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আকম সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, ইডকলের চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার নাজমুল হক, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার রোজেল, কোস্ট ফাউন্ডেশনের উপনির্বাহী পরিচালক সনৎ কুমার ভৌমিক, সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা, উন্নয়নধারার সদস্য সচিব আমিনুর রসুল, টেল প্লাস্টিকসের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুবা সুলতানা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আহমেদ সাকী ও সৈয়দা শাহারিনা হাসিন।

আয়োজনে উপস্থিত হয়েছিলেন বেসিক ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি ও ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নুরুন নেওয়াজ, এনসিসি ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদুল আলম চাকলাদার, সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র পরিচালক মীর সাজেদ উল বাসার, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন, হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজার আলমগীর মোরশেদ, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুব আলাম, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান্তি কুমার সাহা, ফার্স্ট ফাইন্যান্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. আবদুল বারী।

অনুষ্ঠানে অংশ নেন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও ডেল্টা এগ্রো ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক তানভীর আহমেদ মোস্তফা, থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বাসব বাগচী ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইউসুফ শাহরিয়ার, লাল তীর সিড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, হকস বে অটোমোবাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হক, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সিইও মো. শামসুল হুদা, আকিজ রিসোর্সের চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌফিক হাসান, হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের সিনিয়র পার্টনার এএফ নেসারউদ্দিন, একনাবিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার মো. রুকনুজ্জামান ও এনেক্স কমিউনিকেশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান।

সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন সামিট মেঘনাঘাট ১ ও ২ পাওয়ার কোম্পানিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. রিয়াজ উদ্দিন, ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব রেগুলেটরি মো. শামীম মিয়া, ইউনাইটেড গ্রুপের হেড অব নিউ বিজনেস রাহাত বিন কামাল, জেরা বাংলাদেশ-এর জেনারেল ম্যানেজার আলিফ নূর, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চিফ মার্কেটিং অফিসার কাজি মো. মহিউদ্দিন, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার আবু সাঈদ রাজা, বিএসআরএমের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রকৌশলী সৌমিত্র মুৎসুদ্দি, ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) জোহেব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাবিদদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ, নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু হেনা মো. জুলফিকার আলী, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম জাহিদ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাউসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সোফি উল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বদরুল হাসান, পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান আবু হাসানাত মো. কিশোয়ার হোসেন।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, ব্যবসায় অনুষদের ডিন আবু সাঈফ মো. মুনতাকিমুল বারী চৌধুরী, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আসরারুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক এএসএম সাইফুল্লাহ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিনুজ্জামান, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন ড. তোফাজ্জল ইসলাম, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গতকালের গ্রিন ডায়ালগে উপস্থিত হয়েছিলেন বিল্ডের সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, চিত্রশিল্পী লায়লা শারমিন, ভিশন এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তৌফিক মহিউদ্দিন, সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্কের (সাচিন) সদস্য সচিব শাফায়েত হোসেন, সাবেক উপসচিব তপন কুমার নাথ, হাসিমুখ সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট নুসরাত আক্তার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাজ্জাদুল কিবরিয়া দিপু, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ডায়াস্পোরা উপকমিটির কো-অর্ডিনেটর আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার জসিম উদ্দিন, জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সংগঠক সর্দার আমিরুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ইবনে তৌহিদ, বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (যান্ত্রিক) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার (তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা) রেজাউল করিম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডিজিএম শুকদেব ঢালী।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৬ অক্টোবর ২০২৬
Trulli

জলবায়ু অভিঘাতে অর্থনীতি, রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকতে চায় বেসরকারি খাত