সমাজে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার ও সম্মানজনক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজে প্রতিটি নাগরিকেরই সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে। যাঁদের বিশেষ মনোযোগ ও সহায়তার প্রয়োজন, আমাদের সরকার সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।” তিনি মনে করিয়ে দেন, দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেও তিনি এ সম্প্রদায়ের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে তাঁদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। প্রতিনিধিরা জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা, চাকরির বয়সসীমা শিথিলকরণ এবং বিশেষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানান। এছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আদালতে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগ এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন চালুর দাবি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যসহকারে সবার বক্তব্য ও দাবি শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ আশ্বাস প্রদান করেন: আদালত ও হাসপাতালগুলোতে দ্রুত ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়। সভায় উঠে আসা প্রধান দাবি—উপযোগী ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। কৃষিকাজে আগ্রহী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সহযোগিতার নির্দেশনা এবং বড় শহরগুলোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার গঠনের পর ইতিমধ্যে ভাতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ভাতা আরও বাড়ানো হবে।
অনুষ্ঠানের এক আবেগঘন মুহূর্তে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ মো. মহসিন প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে আনা একটি ক্যাপের কথা জানালে, প্রধানমন্ত্রী নিজে মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এই মতবিনিময় সভা শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে এক ফটোসেসনে অংশ নেন।

















