সাভার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিরুলিয়া ইউনিয়নে মাদকের অবাধ বিস্তার ও সেবন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মরণনেশা মাদকের করাল গ্রাসে এলাকার সম্ভাবনাময় যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে এবং নিঃস্ব হয়ে পড়ছে বহু পরিবার। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,ইউনিয়নের বিভিন্ন অলিগলি, নির্জন এলাকা এবং যুবকদের নিয়মিত আড্ডাস্থলগুলোতে সহজে মিলছে নানা ধরনের মাদক। মাদকের এই সহজলভ্যতার ফলে উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবসমাজ অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মাদকের অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে চুরি, ছিনতাই এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, তা বাস্তবায়নের বাস্তবসম্মত রূপ দেখতে চান স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্বাচিত হওয়ার পর এ প্রতিশ্রুতি কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও সংশয় কাজ করছে।
বিরুলিয়া ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রোধ ও যুবসমাজকে সুরক্ষার বিষয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন,”মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। বিরুলিয়া এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি ও যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ইতোমধ্যে সাভার মডেল থানাকে ওই এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কেউ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন,তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি এলাকার তরুণদের সুরক্ষায় পরিবার ও স্থানীয় সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।”
সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এ সামাজিক ব্যাধি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ: পারিবারিক সচেতনতা ও নজরদারি: সন্তানদের গতিবিধি,সাহচর্য এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমের প্রতি বাবা-মাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন মাদক প্রতিরোধের প্রথম এবং সবচেয়ে কার্যকর সোপান। সামাজিক আন্দোলন ও কাউন্সিলিং: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে নিয়মিত মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা, যাতে তরুণ প্রজন্ম মাদকের কুফল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়। প্রশাসনের জোরালো ও নিরপেক্ষ ভূমিকা: মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা। অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের পৃষ্ঠপোষক পার পেয়ে যেতে না পারে।
বিরুলিয়া ইউনিয়নকে মাদকের অভিশাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে তরুণ প্রজন্মের একটি নিরাপদ ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবক,সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।












