ইসলামের শাশ্বত বাণী মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং উম্মাহর মাঝে দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে তাবলীগ জামাতের মেহনত এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান যান্ত্রিক ও দুনিয়াবি মোহগ্রস্ত যুগে অনেকেই আল্লাহর স্মরণ ও দ্বীনের সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যান। এমন প্রেক্ষাপটে দাওয়াত ও তাবলীগের এই মোবারক মেহনত মানুষকে ভালোবাসা ও হিকমতের মাধ্যমে পুনরায় আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনতে এক কার্যকর উছিলা হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলেও সঠিক দিকনির্দেশনা ও দ্বীনি শিক্ষার অভাবে অনেকেই জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যান। তবে আশার কথা হলো, মানুষের ভেতরের সুপ্ত ঈমানকে জাগ্রত করতে তাবলীগ জামাত কোনো ধরনের জোর জবরদস্তি বা ঘৃণা ছড়ানোর পরিবর্তে পারস্পরিক ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও উত্তম আচরণের ওপর জোর দেয়। এর ফলে জীবনের যেকোনো পর্যায়ে এসেও একজন মানুষ আন্তরিক তাওবা ও সৎ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজের জীবন পরিবর্তন করার সুযোগ পান।
টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মশুদ্ধির সবচেয়ে বড় মিলনমেলা। ধনী-গরিব, ছোট-বড় এবং সব ভেদাভেদ ভুলে দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ সেখানে সমবেত হন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে।নিজের আরাম-আয়েশ ও কর্মব্যস্ততা ত্যাগ করে ইজতেমা ময়দানে মানুষ দ্বীনি বয়ান শোনেন।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও সুন্নাহর অনুসরণের গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করেন।অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে বাকি জীবন আল্লাহর হুকুম ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তরিকায় কাটানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
দাওয়াতের প্রকৃত সার্থকতা তখনই ফুটে ওঠে, যখন কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিবর্তন তার পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন যুবকের নামাজমুখী হওয়া, কুরআন-সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ তৈরি হওয়া এবং হালাল-হারামের বাছবিচার করার মানসিকতা শুধু একটি জীবনকেই আলোকিত করে না, বরং পুরো সমাজকে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
দ্বীনের দাওয়াত কেবল অন্যের সংশোধনের জন্য নয়; বরং নিজের জীবন থেকে পরিবর্তন শুরু করা এর মূল ভিত্তি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, মানুষের হক রক্ষা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, হিকমত ও ভালোবাসার সাথে দ্বীনের এই মেহনত অব্যাহত থাকলে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।












