কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় গোয়ালঘরে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছে ১৩টি ছাগল ও একটি ষাঁড়। একই সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়েছে গোয়ালঘরটি। এ ঘটনায় প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন রফিকুল ইসলাম।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে রফিকুল ইসলামের গোয়ালঘরে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোয়ালঘরজুড়ে। এতে ভেতরে থাকা ১৩টি ছাগল ও একটি ষাঁড় জীবন্ত পুড়ে মারা যায়। আগুনে গোয়ালঘরটিও সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি একজন দরিদ্র মানুষ। স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগল পালন করে আসছিলেন। এগুলোই ছিল তাঁর পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু রাতের আগুনে সবকিছু হারিয়ে এখন তিনি দিশেহারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি অনেক কষ্ট করে গরু-ছাগল পালন করে সংসার চালাতাম। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও এখান থেকেই জোগাড় করতাম। কিন্তু হঠাৎ রাতের আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না। আমার শেষ সম্বলটুকুও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অসহায় রফিকুল ইসলাম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।














