পাবনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে চার মাদকসেবীকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পাবনার ঈশ্বরদী ও সাঁথিয়া উপজেলায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঈশ্বরদীতে ৫৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ডিএনসি’র উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলমের নেতৃত্বে ঈশ্বরদী উপজেলার রহিমপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় হারুনের কীটনাশক দোকানের সামনের রাস্তা থেকে মো. রানা ঘরামী (২৪) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে ৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার রানা ঘরামী ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিঘা বাগানপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নান ঘরামীর ছেলে। এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঈশ্বরদী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
সাঁথিয়ায় চার মাদকসেবীর কারাদণ্ড
অন্যদিকে, সাঁথিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ আল হাসান আসিফের নেতৃত্বে উপজেলার পিপুলিয়া, পাটগাড়ি ও ভিটাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে চারজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন:
১. মো. নাজমুল (২৪), পিতা- বাসের উদ্দিন, গ্রাম- পাটগাড়ি, সাঁথিয়া।
২. আমিরুল মৃধা (৪৫), পিতা- আবুল মৃধা, গ্রাম- কলাগাছী, সাঁথিয়া।
৩. মো. সেলিম (২৮), পিতা- জুলহক, গ্রাম- পিপুলিয়া, সাঁথিয়া।
৪. মো. রমজান আলী (৫৭), পিতা- আবু সাইদ, গ্রাম- পূর্ব নোয়ানী, সাঁথিয়া।
অভিযান শেষে ডিএনসি পাবনার উপ-পরিদর্শক মো. জামালুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক সোহান ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
চলমান অভিযানের বিষয়ে যা বললেন ডিএনসি কর্মকর্তা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, চলতি অক্টোবর ২০২৬ মাসে এ পর্যন্ত মোট ৭৯ জন মাদক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।















