মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন নদীর তীরবর্তী বসতি ও জনপদ মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের একেবারে সন্নিকট থেকে অব্যাহতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘সর্বহারা নেতা’ হিসেবে পরিচিত শাহআলমের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দিনরাত সশস্ত্র পাহারায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এলাকাবাসীর দাবি, গত রবিবার (২১ অক্টোবর) সকালেও অবাধে ড্রেজার চালিয়ে বালু তুলতে দেখা গেছে।
এর আগে, জনস্বার্থ ও জাতীয় অবকাঠামোর সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আদেশ কার্যকর করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশনার পরও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। (প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদালতের আদেশের অফিসিয়াল কপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি)।
অসাধু চক্রের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, টাওয়ারের কাছ থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে টাওয়ার ধসে পড়তে পারে। ফলে যেকোনো সময় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি বর্ষার আগেই তীব্র নদীভাঙনে গৃহহীন হতে পারে শত শত পরিবার, বিলীন হতে পারে ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
অভিযোগের বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষায় ও আইন রক্ষায় প্রশাসনের যেকোনো শিথিলতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে এলাকা পরিদর্শন করা এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
















