পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে চারটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, একটি বিদেশি রিভলবার, ১০ রাউন্ড রিভলবারের গুলি, দুটি তাজা কার্তুজ ও অস্ত্র বিক্রির নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ চারজন অবৈধ অস্ত্র কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ২১ ও ২২ অক্টোবর পাবনা সদর, আমিনপুর ও সুজানগর থানা এলাকায় এ সফল অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানে সদর উপজেলার চরঘোষপুর এলাকা থেকে আলাল শেখ (৫২) ও জনি কাজী (২৮) নামের দুজনকে রিভলবার, ওয়ান শুটারগান, গুলি ও নগদ টাকাসহ আটক করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় অভিযানে আমিনপুর ও সুজানগর এলাকা থেকে জলিল মন্ডল (২৮) ও বাবলু মন্ডল (২৬) নামে আরও দুজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অপর এক আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্ব্বেও একাধিক অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপরাধীদের এভাবে হাতেনাতে গ্রেফতার করা এবং তাদের কাছ থেকে বিপজ্জনক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে না।
অভিযান সফল হলেও এ ধরনের ঘটনা সমাজে কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরে: উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে বিদেশি রিভলবার ও কার্তুজ থাকা ইঙ্গিত দেয় যে, নেপথ্যে একটি সুসংগঠিত অস্ত্র পাচারকারী চক্র কাজ করছে। গ্রেফতারকৃতরা পূর্বের অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও বারবার কীভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, সেদিকে আইনি ও সামাজিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
পাবনা জেলা পুলিশের এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে অপরাধমুক্ত করতে হলে কেবল পুলিশের অভিযানের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। কোনো এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি টের পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা নাগরিকদের দায়িত্ব।
পাবনা ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারসহ বাকি অস্ত্র উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান যেমন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, তেমনি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য বড় ধরনের বার্তা হিসেবে কাজ করবে।














