ঢাকার একদম কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী ৭ নং বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই বইতে শুরু করেছে উত্তাপ। গ্রাম কিংবা চায়ের দোকান, হাট-বাজার থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম—সবত্রই এখন একটাই আলোচনা: ‘কে হচ্ছেন আগামী দিনের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাণ্ডারি?’ স্থানীয় ভোটার ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সার্বিক জনমত জরিপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অতীতের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এবার ভোটাররা কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে ভুলতে নারাজ। তারা এমন একজন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চান, যিনি হবেন দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, সহজলভ্য এবং এলাকার প্রকৃত উন্নয়নে বিশ্বাসী। জনজরিপে উঠে আসা ভোটারদের প্রধান দাবি ও প্রত্যাশা:বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাব, সামাইর, দেউল, দত্তপাড়া, খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটাররা আগামী চেয়ারম্যানের কাছে যে বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন:মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ: এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় দাবি—ইউনিয়নকে শতভাগ মাদকমুক্ত করা।
তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে জিরো-লারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন, এমন দৃঢ়চেতা ও কঠোর ভাবমূর্তির নেতাই চান সাধারণ মানুষ।সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার: স্থানীয় ভোটারদের মতে, চেয়ারম্যান হবেন জনগণের সেবক। যার কাছে বিচার-সালিশ, নাগরিক সনদপত্র বা যেকোনো প্রয়োজনে গিয়ে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী (দালাল) বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। ইউপি ভবনে সাধারণ মানুষের মুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে যিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন। অবকাঠামো ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা: তুরাগ নদীর তীরবর্তী ও ঢাকার সন্নিকটে হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বিরুলিয়ায় দ্রুত নগরায়ন ঘটছে।
তবে সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটাররা আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সঠিক ড্রেনেজ পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী চেয়ারম্যান চান। স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত ইউপি সেবা: জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা (বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা) বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অবসান চান ভোটাররা। তারা ডিজিটাল সেবা ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি অনুদান পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা চান।
ফুলচাষ ও কৃষি-পর্যটনভিত্তিক সম্ভাবনার বিকাশ: বিরুলিয়া ‘গোলাপ গ্রাম’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত। স্থানীয় কৃষি ও ফুলচাষীদের সহজ সুবিধা প্রদান, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং পর্যটন পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখার ব্যাপারে দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রার্থীর প্রতি সাধারণ মানুষের ঝোঁক বেশি।”আমরা এমন চেয়ারম্যান চাই যিনি বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন, যাঁর দরজায় যেতে কোনো ভয়ের দরকার হবে না। যিনি কথায় নয়, কাজে এলাকাকে মাদকমুক্ত ও উন্নত করবেন।
” মো. রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভোটার, বিরুলিয়া।”আমাদের গোলাপ গ্রাম ও আশপাশের এলাকাগুলোতে দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে। কিন্তু ড্রেনেজ আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভীষণ ঘাটতি রয়েছে। আমরা চাই যিনিই চেয়ারে বসুন, তিনি যেন আধুনিক ইউনিয়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন।
” সুমি আক্তার, তরুণ ভোটার। তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র উভয় বলয়েই চলছে ব্যাপক গণসংযোগ। প্রার্থীরা দুর্গোৎসব, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ, পথসভা এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞদের মতে, বিরুলিয়ায় এবারের নির্বাচনে তরুণ ও নতুন ভোটারদের উপস্থিতি বিশাল ভূমিকা পালন করবে।
কোনো নির্দিষ্ট দলীয় পরিচয় বা ঐতিহ্য নয়, বরং রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সমাজসেবামূলক ইতিহাস ও উন্নয়নমূলক রোডম্যাপ দেখেই এবার অধিকাংশ ভোটার ব্যালট পেপারে তাদের রায় নির্ধারণ করবেন। নির্বাচনী সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বিরুলিয়াবাসীর প্রত্যাশার পারদ ততই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আশার প্রতিফলন ঘটিয়ে কে হবেন সাভারের ৭ নং বিরুলিয়া ইউনিয়নের পরবর্তী অভিভাবক, এখন সেটাই দেখার বিষয়।















