প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও দেশের জাতীয় মৎস্যসম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকা সত্ত্বেও যমুনা নদীতে দিন-রাত টানা সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকারের সরাসরি নেতৃত্বে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ও শনিবার (২৪ অক্টোবর) যমুনা নদীর বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নদী থেকে প্রায় ১০০ কেজি মা ইলিশ এবং বিশাল পরিমাণের নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত ইলিশ মাছগুলো পরবর্তীতে স্থানীয় এতিমখানা, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়।
যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রশাসনকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জানা যায়, ইতিপূর্বে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিকবার অসাধু চক্রের দ্বারা হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা কিংবা বাধা প্রদান শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই বিঘ্নিত করে না, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার মহাপরিকল্পনাকেও ধীরগতির করে তোলে। তাই অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে টহল জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
শিবালয়ের সচেতন নাগরিকেরা প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের মতে, ছুটির দিনেও টানা অভিযান পরিচালনা করা প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও জিরো টলারেন্স নীতিরই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং জাতীয় স্বার্থে সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সময়ে যমুনা নদীতে কোনোভাবেই ইলিশ শিকার করতে দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে আমরা সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জেলে সমাজ ও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সচেতন করাই হতে পারে এই অভিযানের সবচেয়ে বড় শক্তি। স্থানীয় জেলেদের সাময়িক বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারি সহায়তার সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে পারলে মা ইলিশ রক্ষা আরো সহজ হবে।
প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি, সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় যমুনা নদী কেন্দ্রিক ইলিশের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন মৎস্য বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।















