সর্বশেষ

উচ্চ আদালতের নির্দেশ তোয়াক্কা না করেই শিবালয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার ও নদীতীরবর্তী বসতি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদী থেকে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে নদী তীরবর্তী ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিকটবর্তী এলাকা থেকে ড্রেজার বসিয়ে অনবরত বালু তোলা হচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
​ঝুঁকিতে জাতীয় গ্রিডের টাওয়ার ও জনপদ
​

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শিবালয়ের যমুনা নদীর আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের অতি কাছ থেকে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর থেকে শাহআলমের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি ড্রেজার চালুর দৃশ্য দেখা যায়। বালু উত্তোলন নিশ্চিত ও তদারকি করতে সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
​

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন বজায় থাকলে নদীভাঙন চরম আকার ধারণ করবে। ফলে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়বে জাতীয় গ্রিডের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার দুটি। টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বিশাল এলাকা।
​

গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর; আহত ২

আদালতের নির্দেশনা ও বাস্তবায়নের ঘাটতি
​আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, নদী রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় এর আগেই উচ্চ আদালত ওই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন এবং এক মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেন। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও বাস্তবে অবৈধ ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য এবং যথাযথ নজরদারির অভাবে আদালতের আদেশও কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
​প্রশাসনের বক্তব্য
​

সার্বিক পরিস্থিতি ও স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা রানী কর্মকার জানান, যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
​তিনি বলেন, “যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ’ অভিযান উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ যৌথভাবে নদীতে সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং প্রমাণ মিললেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
​

জনদাবি ও আশু পদক্ষেপের তাগিদ
​অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে কেবল সাময়িক অভিযান যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশ শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া মূল অপরাধীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন শিবালয়বাসী।

রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫জন নিহতের ঘটনায় ট্রাক ড্রাইভার লুৎফর গ্রেফতার,

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২৫ অক্টোবর ২০২৬
Trulli

উচ্চ আদালতের নির্দেশ তোয়াক্কা না করেই শিবালয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন: হুমকির মুখে বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার ও নদীতীরবর্তী বসতি