সমাজে সবার নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাফেরা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশকে শক্তিশালী ও ক্ষমতায়ন করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক ও বন্ধুসুলভ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সমাজের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিন কিংবা রাতে কেউই নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবো না।”
রবিবার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে বাগেরহাটের নতুন পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক ‘কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ’ শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পুলিশ প্রধান।
সংবাদ সম্মেলনে ও সমাবেশে আইজিপি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সুরক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন: পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়ন: বর্তমান সরকার পুলিশকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে পুলিশের বিদ্যমান নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ অচিরেই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে যুবসমাজের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, প্রতি বছর দেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকার তৈরি হচ্ছে। তাদের সঠিক পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষার স্বার্থে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ: কিশোর গ্যাং নির্মূলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নিয়ে ইতোমধ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এলাকার চিহ্নিত অপরাধী বা মাদকসেবীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ভূমিকা: বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, মাদক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সহ প্রায় ১৫টি সামাজিক সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাগেরহাট জেলার পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্তরের সাধারণ জনগণ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে আইজিপি জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় অংশ নেন এবং সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।

















